reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য

কুশিয়ারার তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছে না। স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় নদীভাঙন আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শত শত পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর ও নতুন কসবা গ্রামসহ কুশিয়ারা নদীর তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি কোম্পানি রাতের আঁধারে অলৈতলী ও খানপুর মৌজা অংশে এই বালু উত্তোলনযজ্ঞ চালাচ্ছে।

প্রশাসনকে উকিল নোটিশ ও হাইকোর্টে রিট

অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে নতুন করে ভাঙন শুরু হলে ঘরবাড়ি বিলীনের আশঙ্কায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আইনি প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার পোদ্দার। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে জালালপুর গ্রামের জাহির আলী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন।

গত বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটকে কুশিয়ারা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশনা আজও আলোর মুখ দেখেনি।

প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

এদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুহসিন উদ্দীন গত ২১ মে (২০২৬) স্মারক নং ৭৯৭-এর এক প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কুশিয়ারা নদীর জগন্নাথপুর অংশে কোনো অনুমোদিত বালুমহাল নেই এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো বৈধ অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।

তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেছে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিনের কণ্ঠে। তিনি দাবি করেন, "পাইলগাঁও ইউনিয়নের অংশে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি কোম্পানির তফসিলভুক্ত জায়গায় বালু উত্তোলনের বৈধ অনুমোদন রয়েছে।"

চরম ক্ষোভে এলাকাবাসী

উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা এবং খোদ ভূমি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রিটকারী জাহির আলী আক্ষেপ করে বলেন, "নদীভাঙন থেকে আমাদের ভিটেমাটি রক্ষা করতে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো লাভ হলো না। প্রশাসন আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করছে না। চোখের সামনে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদী ধ্বংস করা হচ্ছে।"

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়