চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

মেরামতের জন্য সরিয়ে নেওয়া হলো ফেরি কুঞ্জলতা, যাত্রীদের দুর্ভোগ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে চলাচলকারী বিআইডব্লিউটিসির ফেরি ‘কুঞ্জলতা’ চিলমারী নদীবন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে চিলমারী ফেরিঘাট থেকে ডকিং মেরামতের জন্য এটিকে নিজস্ব ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বর্তমানে শুধু ‘কদম’ নামের একটি মাত্র ফেরি দিয়ে কোনোমতে যানবাহন পারাপার চালানো হচ্ছে।

একটি ফেরি সচল থাকায় ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। নদী পারাপারের জন্য ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়ায় যেমন পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, তেমনি চালক, শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী ফেরিঘাটের ইনচার্জ মো. আকিব সোহেল আকাশ জানান, ফেরি কুঞ্জলতার সার্ভে সনদ হালনাগাদ ও ডকিং মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সেটিকে ‘ডক-১’-এ পাঠানো হয়েছে। এটি পুরোপুরি মেরামত করতে আনুমানিক দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে ঘাটের যানজট ও জনভোগান্তি এড়াতে ফেরিটি ডকইয়ার্ডে পৌঁছানোর পরপরই বিকল্প আরেকটি ফেরি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে। এর আগে গত ১৩ জুলাই বিআইডব্লিউটিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. জিয়াউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

হঠাৎ ফেরি কমে যাওয়ায় ঘাটে আটকে থাকা চালকেরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পাথর নিয়ে আসা ট্রাকচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও আবদুল মান্নান জানান, স্বাভাবিক সময়েই ফেরির জন্য তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন একটি ফেরি চলে যাওয়ায় অপেক্ষার সময় ও খরচ দুটোই দ্বিগুণ হয়ে যাবে। প্রতিদিন গাড়ির যে চাপ থাকে, তাতে একটি ফেরি দিয়ে পারাপার করা অসম্ভব। তাই তারা দ্রুত বিকল্প ফেরির দাবি জানিয়েছেন।

রেল, নৌ-যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, চিলমারী-রৌমারী নৌপথে যানবাহনের চাপ বিবেচনায় যেখানে ফেরির সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার, সেখানে সচল একটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। জনস্বার্থে অবিলম্বে এখানে বিকল্প ফেরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রশাসনের অত্যন্ত জরুরি দায়িত্ব।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়