আবদুর রউফ, ধামরাই (ঢাকা)

  ৮ ঘণ্টা আগে

ঢাকার ধামরাই

সেতুর কাজে ধীরগতি, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

একটি সেতু বা একটি সড়ক শুধু যোগাযোগের উন্নতিই ঘটায় না, সেই আঞ্চলের অর্থ-সামাজিক ও মানুষের বড় পরিবর্তন ঘটায়। ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের ছোট কালামপুর বংশী নদীর ওপর নির্মাণ হচ্ছে এমন একটি সেতু যা দুই পারের কয়েকটি গ্রামের মানুষের সেতুবন্ধ তৈরি করবে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম হবে সেতুটি। কিন্তু সেই সেতুর কাজ শুরু হলেও ধীরগতিতে চলছে। এখন নতুন সেতু না হওয়ায় নদীর দুই পারের মানুষ নিত্য ভোগান্তিতে পড়েছে। সেতু নির্মাণ হওয়ার প্রত্যাশায় কয় বছর অপেক্ষা করতে হবে এমন প্রশ্নও তাদের।

আগের সেতুটি সরু হওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ মে সেতুটি ভেঙে নতুন করে সেতু নির্মাণের উদ্বোধন করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা বেনজির আহমদ। উদ্বোধনের পর কাজ শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামারজান আনোয়ার জেবি। তাদের সেতুর কাজটি শেষ করার কথা ছিল ২০২৩ সালের ২৩ জুন। কিন্তু তারা পূর্বের সেতুটি ভেঙে মালামাল নিয়ে চলে যান।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ৬ নভেম্বর রিটেন্ডার করে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নতুন চুক্তিতে কাজ পায় মেসার্স উপকূল করপোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে। কিন্তু দুই বছর পার হলেও মাত্র অর্ধেক কাজ শেষ করতে পারেনি। কবে নাগাদ শেষ হবে সেতুর কাজ সে উত্তর মিলছে না তাদের কাছে।

ধীরগতিতে কাজ করার ফলে সেতু নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা মালামাল যেমন রড, পাথর এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে কাজের মান নিয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের ক্ষোভ। এতে দুই পারের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ দুই পারের হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় এরশাদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যে ভাটা পড়েছে। তা ছাড়া কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। তাদের ৫ কিলো রাস্তা ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। অসুস্থ রোগীদের নিয়ে দ্রুত যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই এই সেতু ছাড়া। তাই আমাদের দাবি দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করে দুই পারের হাজার হাজার মানুষের দুঃখ লাগব করার।

কলেজ ছাত্র এনামুল হক ইমন বলেন, এই সেতুটির কারণে আমাদের প্রায় ৫ কিলো ঘুরে কলেজে যেতে হয়। বৃষ্টির দিনে কাঁচা রাস্তা দিয়ে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। অনেক সময় জামা-কাপড়ে কাদা লেগে নষ্ট হয়ে যায়। তাই দ্রুত সেতুটি হলে আমাদের দুর্ভোগ শেষ হবে।

ভ্যানচালক কাদের মিয়া বলেন, এই সেতুটি আর কত দিনে হবে। মালামাল নিয়ে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কাঁচা রাস্তায় ভ্যান অনেক সময় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকতে হয়। ৫ কিলো ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। চাই ব্রিজটি তাড়াতাড়ি হলে আমাদের ভালো হয়।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলার প্রকৌশলী (এলজিইডি) মিশুক কুমার দত্ত বলেন, দুর্যোগের কারণে কাজে কিছুটা দেরি হলেও আমরা সেগুলো ওভারকাম করেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুুক্ত করা হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়