reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বিদেশি অর্থায়ন না হলেও উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে

বাস্তবতা বলছে, দেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ির অবস্থানে নেই। যারা এত দিন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে দেখে এসেছে, তারাই আজ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে। এ অবস্থানে আসতে দেশ ও জাতিকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জনগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং ইচ্ছার প্রতিফলন এ অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। এধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে আমরা আরো শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হব বলেই আমাদের বিশ্বাস। বিশেষ করে এ উন্নয়ন যদি মানুষের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে বেগবান হয়, তাহলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই আর এর গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলেই আমরা মনে করি।

পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। সংবাদে বলা হয়, দেশ ও মানুষের জন্য কল্যাণকর যেকোনো প্রকল্পে উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়ন না পেলেও সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তা বাস্তবায়ন করবে। ভালোবাসার নির্যাসে গড়া বাক্যটি বলেছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। উচ্চারিত শব্দাবলি আমাদের আশান্বিত করেছে। মানসিক শক্তিকে বেগবান করেছে। দেশের অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী হলে এ ধরনের সিদ্ধন্তের কথা উচ্চারিত হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। তিনি আরো বলেছেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের জন্য যা মঙ্গলকর এবং লাভজনক, এমন প্রকল্পে যদি বিদেশি কোনো সংস্থা অর্থায়ন না করে, তাহলে আমরা তা নিজ উদ্যোগেই নিজস্ব অর্থায়নে তা সম্পন্ন করব। আমরা সেই সক্ষমতা অর্জন করেছি বা সে সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

আমাদের সক্ষমতা যেকোনো মুখরোচক বুলি মাত্র নয়, ইতোমধ্যেই তা প্রমাণিত। পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। সামনে এ রকম আরো উদাহরণ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে এখানে একটি কথা না বললেই নয় যে, উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পেশার ক্ষেত্রে সততা এবং দেশপ্রেমের উদাহরণ তৈরি করা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আজ অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের গতিকে বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে উন্নয়নের গতি বৃদ্ধিতে তা সহায়ক হতে পারত। নিজেদের পরিশুদ্ধ করে সেই গতিকে আরো ত্বরান্বিত করার মধ্যেই নিহিত আছে আমাদের গৌরবময় ভবিষ্যৎ।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেছেন, দেশের প্রত্যেকটি মানুষই রাষ্ট্রের জন্য এক একটি সম্পদ। প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। তাদের সেই সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হবে। শুধু নিজের জন্য নয়, আমাদের সন্তানদের জন্য, প্রতিবেশীর জন্য, দেশের মানুষের জন্য সর্বোপরি বিশ্বমানবতার জন্য কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বলতে হয়, আমাদের স্বপ্ন এখন আর শৈশব-বৃত্তের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। আমাদের বয়স এখন অর্ধশত বছরকে স্পর্শ করেছে। স্বপ্নের পরিধিও বেড়েছে। বেড়েছে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা। এই অগ্রযাত্রার গতিকে কোনোভাবেই নামিয়ে আনা যাবে না। সজাগ থাকতে হবে সরকার ও সাধারণ মানুষকে। কোনো প্রকার অপশক্তিকে বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে আত্মহত্যার শামিল। মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষার কাজ কঠিনতর। সুসংহত অর্থনীতি এ কাজকে সহজতর করতে পারে। দেশ সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে বলেই আমাদের

বিশ্বাস ও প্রত্যাশা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close