পোশাকশিল্পের নতুন যাত্রা শুভ হোক

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বিধ্বস্ত পৃথিবী। করোনার আগ্রাসী হামলায় নুয়ে পড়েছে বিশ্বের অর্থনীতি। পর্যুদস্ত সভ্যতা। করোনাভাইরাসের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্বের সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এখনো আবিষ্কার হয়নি ভ্যাকসিন। কবে আসবে তার কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো অজানা। প্রতিদিনই ঝরে পড়ছে হাজারো জীবন। স্থবির যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকতে পারেনি। আমরাও আক্রান্ত হয়েছি। চারপাশে কেবল নেতিবাচক সংবাদ। এর মাঝে একটি শুভ সংবাদ এলো। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। অনেক নিরানন্দের মাঝে এটি একটি আলোর হাতছানি বটে। আমরা নতুন করে নতুনভাবে বেঁচে থাকার ভরসা খুঁজে পেলাম। কেননা দেশের বৃহত্তম আয়ের উৎসÑ অবরুদ্ধ পথটি আবার খুলে যেতে চলেছে। অর্থনীতির চাকা আবার আগের গতিশীল অবস্থায় ফিরে যাবে। শিল্প-কারখানার চাকা ঘুরবে। শ্রমজীবী মানুষ ফিরে পাবে তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান।

কোভিড-১৯ এর ধাক্কা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। করোনা প্রাদুর্ভাবে স্থগিত ও বাতিল হওয়া ক্রয়াদেশগুলো ফিরে আসতে শুরু করেছে। ফলে বাড়তে শুরু করেছে রফতানি। আশায় বুক বাঁধছেন এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটিতে সংশ্লিষ্ট মালিক ও শ্রমিকপক্ষ। অনেকের মতে, করোনাভাইরাসের ধাক্কা প্রাথমিকভাবে কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। সরকার তার সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পোশাকশিল্পকে তার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে। পোশাক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে অব্যাহতভাবে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে চলতি বছরের মার্চে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের রফতানি কমে যায় প্রায় ২০ দশমিক ১৪ শতাংশ। এরপর এপ্রিলে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনি¤œ রফতানি কমে ৮৫ দশমিক ২৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। মে মাসে কমে ৬২ শতাংশে। জুনেও রফতানি কমার ধারাবাহিকতাবজায় ছিল।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, করোনার প্রাদুর্ভাবে পোশাক রফতানিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে চলতি বছরের এপ্রিলে। ওই মাসে মাত্র ৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়। আগের বছরের তুলনায় যা ৮৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। তবে মে মাসে আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ কোটি ডলারে। তবে জুনে এসে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২২৪ কোটি ডলারে। ইপিবির তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্খবছরে রফতানি আয়ের ৮৪ দশমিক ২০ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। গত অর্থবছর বাংলাদেশ ২ হাজার ৭৯৪ কোটি ৯১ লাখ ডলারের পোশাক পণ্য রফতানি করে। যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ১২ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এদিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্রেতারা করোনার কারণে যে অর্ডারগুলো স্থগিত বা বাতিল করেছিলেন সেই অর্ডার থেকেই এখন কিছুকিছু অর্ডার ফিরে আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি নতুন অর্ডারও আসছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী শীতকালীন অর্ডারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার হৃতগৌরব ফিরে পাবে। যে ধারার সূচনা হয়েছে তাকে ইতিবাচক হিসেবেই চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। আমরা মনে করি, এ ধারা অব্যাহত থাকুক এবং আমরা আমাদের অর্থনৈতিক বন্ধ্যত্বকে পরাভূত করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হই- এই প্রত্যাশা।

 

"