কাজী সাজিয়া ইসলাম, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
পরীক্ষার প্রহরে এক চিলতে অবকাশ

সেমিস্টার ফাইনাল মানেই চাপ, দুশ্চিন্তা আর ব্যস্ততায় ভরা দিন। ডিসেম্বর মাস ঘোরাঘুরি করার সময় হলেও আমাদের ভাগ্যে জুটেছিল সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। একেতো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা তার ?উপর এতো বেশি ঘোরাঘুরি, আড্ডা এবং পড়ার ফাঁকি দিয়েছি, যে সিলেবাস প্রায় সবই বাকি। কিন্তু যেকোনো সময় নোটিশ আসতে পারে। তাই প্রতিটি মুহূর্ত কাটছিল ভয়ে ভয়ে। মনে মনে প্রতিঙ্গা করেছিলাম ,পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে কোথাও ঘুরতে যাবো না।
সময়টি ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ, ?সকালে ঘুম থেকে উঠে নাশতা করে পড়ার প্রস্তুতি ?শুরু করেছি, ওমনি কল এল ঘুরতে যাবি? শুরুতে যেতে না চাইলেও পরে হার মেনে নিলাম। আমরা সকাল ১০টার মধ্যে ক্যাম্পাসে পৌঁছে গেলাম। যাত্রা নিয়ে আলোচনা করতে করতেই সবার ফোনে সেই কাঙ্ক্ষিত অপ্রিয় নোটিশটির বার্তা এলো। আমাদের মুখ চুপসানো কিসমিসের মতো হয়ে গেল। সাত দিন পর পরীক্ষা! কিন্তু আর ফিরে যাওয়ার তো উপাই নেই, একবার যখন যেতে চেয়েছি তখন ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলেও না গিয়ে শান্তি পাবো না। কয়েকজনের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ধরে-বেঁধে আমরা কুষ্টিয়া থেকে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। যাত্রা পথে বাসের জানালা দিয়ে ঝিনাইদহের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে পরীক্ষার চিন্তা কখন ফানুস হয়ে উড়ে গিয়েছে বুঝতেই পারিনি।
আমাদের প্রথম গন্তব্য হলো ঝিনাইদহের ঐতিহাসিক স্থাপনা মিয়ার দালান। ভেতরে প্রবেশের জন্য অনেকক্ষণ দরকষাকষি করে ২০ টাকার টিকিট ১০ টাকা দিয়ে কিনে বিজয়ের হাসি হেসে ভিতরের দিকে অগ্রসর হলাম। ইট, খিলান, নকশাকৃত দেয়াল সবমিলিয়ে পুরোনো বাংলার অপরূপ দালান নির্মানশৈলি দেখে আমরা বিমোহিত হলাম। দালানটির চারপাশের সুন্দর-সবুজ পরিবেশে মনটা শান্ত হয়ে গিয়েছিল। সবার মলিন মুখগুলো চিকচিক করতে লাগলো, কারো কোনো আফসোস রইলো না। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল ঝিনাইদহের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট। ১০০ বিঘা জায়গাজুড়ে প্রকৃতি ও আধুনিক বিনোদনের মিশ্রণে গড়ে ওঠা এই পার্কে প্রবেশ করতেই মনে হলো যেন স্বপ্নের দেশে চলে এসেছি। সবার চোখে মুখে আনন্দের ছাপ।
প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও নিয়মমাফিক রুটিনের বাইরে গিয়ে পরীক্ষার আগে যেন নিজেদের একবার বুস্ট করে নিলাম। সেখানে ছোট ছেলে-মেয়েদের মতো আমরাও ছোট হয়ে গেলাম ঢেঁকি আর দোলনায় দোল খেতে খেতে। কিছুক্ষণের জন্য ছোটবেলায় ফিরে গিয়েছিলাম। খাওয়া-দাওয়া, হাসি-আড্ডা সবকিছু মিলে কখন সন্ধ্যা হয়ে গেল টেরই পেলাম না। শেষে ঝিনাইদহের বিখ্যাত কাবাব খেয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ক্লান্ত শরীর আর প্রফুল্ল মন নিয়ে রাতের শহর দেখতে দেখতে আমরা ৭:৩০ এর দিকে ক্যাম্পাসে পৌঁছালাম। এরপর সবাই বিদায় নিয়ে নিজেদের মেসে ফিরে গেলাম। পরের দিন থেকে শুরু হলো নতুন উদ্যোমে পরীক্ষার প্রস্তুস্তি।
"









































