শাহরিয়ার স্বর্ণব, হাবিপ্রবি, দিনাজপুর
স্থাপত্য বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের চোখে হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস

দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে ওঠে হাবিপ্রবি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনগুলো নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ এবং অজানা সম্ভাবনার মাঝে তারা খুঁজে নেয় নিজেদের স্বপ্নগুলো। শিক্ষাজীবন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিনগুলোই প্রত্যকে শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। নতুন শিক্ষাবর্ষে স্থাপত্য বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরাও প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাস জীবনের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। প্রত্যেকেরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি। চলুন আমরা ক্যাম্পাস নিয়ে তাদের ভাবনাগুলো জেনে আসি-
ওরিয়েন্টেশনে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুপ্রেরণামূলক ছিল
দিনটি ছিল ২৭ জানুয়ারি। সেদিন আমি দিনাজপুরে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলাম। আমার ইচ্ছা ছিল এখানেই পড়বো। আলহামদুলিল্লাহ, যেদিন আমি আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেলাম, সেদিন আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত হয়েছিলাম। এর অন্যতম কারণ ছিল আমার দাদুর বাড়ি দিনাজপুরে। ১৭ এপ্রিল আমাদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। আমরা সবাই একসঙ্গে বসেছিলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্বাগত জানিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী এন. এম. এহসানুল হক মিলন। তার বক্তব্য আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। পুরো বক্তব্য আমি ভিডিও করে আমার ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের বন্ধুদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ- ফারনিয়া ম্যাম, আরিফা ম্যাম, নাঈম স্যার, সৌরভ স্যার এবং ইমরান স্যার অত্যন্ত বন্ধুসুলভ ও আন্তরিক। কোনো ভুলত্রুটি হলে ব্যক্তিগতভাবে বুঝিয়ে দেন। বিষয়টি আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এতটা আন্তরিক ও বন্ধুসুলভ হতে পারেন, তা আগে কখনো কল্পনা করিনি।
নাবিলা আফরিন রাজনা
স্থাপত্য বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২৬
প্রথম ক্লাসেই আমার আতঙ্ক কেটে যায়
হাবিপ্রবিতে প্রথম ক্লাস করি ২০২৬ সালের পহেলা এপ্রিল। ক্লাস শুরুর আগে আমি খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। একটা কথা খুবই প্রচলিত আছে- ‘বিশ্ববিদ্যালয় নাকি ইন্ট্রোভার্টদের জন্য অভিসাপ’। আমি ইন্ট্রোভার্ট হওয়ায় বন্ধু-বান্ধব তৈরি, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা, একা চলা এসব নিয়ে আমি খুবই আতঙ্কে ছিলাম। কিন্তু প্রথম ক্লাসের পর আমার আতঙ্ক একদমই কেটে যায়। ক্লাসের সবার বন্ধুসুলভ আচরণ, শিক্ষকদের আন্তরিক ব্যাবহার, সিনিয়র ভাই-আপুদের আন্তরিকতা আমার ভয়কে সম্পূর্ণরূপে দূর করে। আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় অভিসাপ নয় বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকে পিছনে ফেলে নিজের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের এক সম্ভাবনাময় অধ্যায় বলে মনে হয়। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের আন্তরিক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে যা পড়াশোনার জন্য এক মনোরম আবহ। আধুনিক একাডেমিক ভবন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং গবেষণাগার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্ক এখানে শিক্ষার মানকে আরো উন্নত করে। একজন শিক্ষার্থীর কাছে এই ক্যাম্পাস শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়- এটি তার স্বপ্ন গড়ার প্রাথমিক ধাপ।
যারিন তাসনিম সাবা
স্থাপত্য বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২৬
সহপাঠী ও শিক্ষকদের আন্তরিকতা ধারণার চেয়েও ইতিবাচক
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুটা সব শিক্ষার্থীর কাছেই এক ধরনের স্বপ্ন ও কৌতূহলের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে আসে। হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আসার আগে আমার মনে এই ক্যাম্পাস নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধারণা ছিল- একটি বড়, শান্ত ও একাডেমিকভাবে সমৃদ্ধ পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীলতারও সুযোগ থাকবে। তবে শুরুতে কিছু বিষয় আমার পূর্ব ধারণার সঙ্গে ভিন্ন লেগেছে। যেমন, অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ এখনো রয়েছে। বিশেষ করে আর্কিটেকচার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, স্টুডিও সুবিধা, ডিজাইন স্পেস এবং প্র্যাকটিক্যাল লার্নিং-এর সুযোগ আরো উন্নত হলে শিক্ষার মান আরো সমৃদ্ধ হবে। অন্যদিকে, সহপাঠী ও শিক্ষকদের আন্তরিকতা আমার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। একাডেমিক সহায়তা, সিনিয়রদের সহযোগিতা এবং বিভাগীয় পরিবেশ আমাকে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। আমার কাছে হাবিপ্রবি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং নিজের দক্ষতা ও স্বপ্নকে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সুহাইল মাহমুদ তাসফিহ
স্থাপত্য বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২৬
চা আড্ডার গল্পগুলো দারুণ
৮৫ একরের এই ক্যাম্পাসটা আমার কাছে শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয় না, বরং এক টুকরো আবেগ। সকালের চেনা পিচঢালা পথ ধরে ক্লাসের তাড়া, দুপুরে টিএসসি বা লাইব্রেরির চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে এক কাপ চা আর সিঙ্গাড়ার আড্ডা, আর বিকেলের মায়াবী আলোয় সবুজ গাছপালার মাঝে হেঁটে বেড়ানো- সব মিলিয়ে এখানকার জীবনটা দারুণ। মাঝরাতে বন্ধুদের সঙ্গে হাসাহাসি আর প্রজেক্ট জমার আগের রাতে একসঙ্গে জেগে গ্রুপওয়ার্ক করার আনন্দটাই আলাদা। দেশী-বিদেশী বন্ধুদের এই মেলাবন্ধনে কাটানো প্রতিটা দিনই যেন জীবনের সবচেয়ে রঙিন আর কখনো না ভুলবার মতো স্মৃতি। স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের আবেগের আরেকটি কেন্দ্রবিন্দু হলো কুদরত-ই-খুদা ভবন। স্টুডিও আর প্রজেক্টের ক্লান্তি কাটাতে শিক্ষার্থীরা এই ভবনে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে, ভবনের ৪ তলার দৃশ্যপট থেকে ক্যাম্পাসের চিরচেনা সবুজ প্রাঙ্গণ ও শিক্ষার্থীদের কোলাহল চমৎকারভাবে দেখা যায়। আর ওপরের তলাগুলো থেকে চারপাশের প্যানোরামিক ভিউসহ বিশাল মুক্ত আকাশ এতটাই মনোমুগ্ধকর লাগে যে, তা দারুণ সব ফটোগ্রাফির পারফেক্ট স্পটে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণায় জড়িয়ে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোই আমার জীবনের সেরা এবং সবচেয়ে রঙিন স্মৃতিগুলোর একটি।
মো. মারুফ আহমেদ
স্থাপত্য বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২৬
পহেলা বৈশাখের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম সত্যিই অসাধারণ। স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সাজসজ্জার কাজে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলাম, যা ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এছাড়াও আমি ‘প্রলয় উল্লাস’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি, যা সেজুতি সাংস্কৃতিক ক্লাব আয়োজন করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা আমার স্মৃতিতে দীর্ঘদিন গভীরভাবে গেঁথে থাকবে। আমার অন্যতম আনন্দময় অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে আম ও লিচু সংগ্রহ করা, ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা, এবং সিনিয়রদের সঙ্গে গিটার বাজিয়ে আড্ডা ও জ্যাম সেশন করা।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। আমার সহপাঠীরা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, চিন্তাধারা, বিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও জীবনধারার প্রতিনিধিত্ব করে। এত বৈচিত্র্যময় মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে থাকা আমার জীবনে প্রথম অভিজ্ঞতা। তাদের সংস্কৃতি, অভ্যাস ও দৃষ্টিভঙ্গি জানা আমার জন্য একদিকে যেমন আনন্দের, তেমনি অন্যদিকে শিক্ষণীয়। আমি আশা করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে আরো অনেক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা, মূল্যবান শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত ও একাডেমিক বিকাশের সুযোগ এনে দেবে।
সৈয়দ সারিম রিজভী
স্থাপত্য বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২৬
আধা ঘণ্টা পর পর বাস চলাচল বেশ সুবিধাজনক
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ঘোরাঘুরি সবকিছুই আমার কাছে প্রাণবন্ত লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে রয়েছে চা খাওয়ার ছোট ছোট দোকান। সহপাঠীদের সঙ্গে সেখানে বহুবার আড্ডা দিয়েছি। বিশেষ করে সেখানকার ডালপুরি আমার খুবই পছন্দ। স্থাপত্য বিভাগ আমরা একটি পরিবারের মতো। যেকোনো সমস্যা ও পরামর্শে সবসময় সবাইকে পাশে পেয়েছি। দিনাজপুর শহর থেকে আমাদের ক্যাম্পাসটি দূরে অবস্থিত হওয়ায়, কোলাহলমুক্ত পরিবেশের জীবন-যাপন আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করছি। প্রতিটি দিন আমাকে নতুন কিছু শেখায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবহন ব্যবস্থা। শহর থেকে প্রায় আধা ঘণ্টা পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল করে, যা দিনাজপুর শহরে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। আমাদের ক্যাম্পাসের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও, আমি আশা করি সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে হাবিপ্রবি হয়ে উঠবে এক অনন্য নাম। ভবিষ্যতে আমাদের নবাগত শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই উজ্জ্বল হবে হাবিপ্রবি’র, এই আশাই ব্যক্ত করি।
মো. জর্জিস
স্থাপত্য বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২৬
হাবিপ্রবি’র প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছে সৌন্দর্য
একজন নবাগত শিক্ষার্থী হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক। অবসরের সময় আমি প্রায়ই আমার বিভাগের বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াই। চারদিকে সবুজ গাছপালা, রঙিন ফুল আর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। এখানে যেন স্বাধীনতার সুবাস মিশে আছে, আর নতুন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা লুকিয়ে আছে প্রতিটি কোণে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার, যেখানে অসুস্থ হলে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারি। শহীদ মিনার দেখলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের কথা মনে পড়ে এবং হৃদয় আবেগে ভরে ওঠে। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় এখানে উদযাপিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপালী ব্যাংকের শাখা থাকায় অভিভাবকগণ সহজেই তাদের সন্তানদের কাছে অর্থ পাঠাতে পারেন, ফলে আমাদের অন্য কোথাও যেতে হয় না। রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং টিএসসি, যেখানে বড় ভাইয়া-আপুরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেন। তাদের দেখে আমি আরো মনোযোগী হয়ে পড়াশোনা করার অনুপ্রেরণা পাই। এছাড়া ক্যাম্পাসের কিছু ভবনের নকশা ও স্থাপত্যশৈলী বেশ চমৎকার ও নান্দনিক বলে মনে হয়েছে। আমি আশা করি, এখানে অধ্যয়নের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেকে আরো দক্ষভাবে গড়ে তুলতে পারব।
ফাহিম আবরার চৌধুরী বিয়ন
স্থাপত্য বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২৬
হাবিপ্রবি আমার কাছে একটি স্বপ্ন
হাবিপ্রবি আমার কাছে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি স্বপ্ন গড়ার এক উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এখানে নিজের ভালোবাসা, সৃজনশীলতা ও চিন্তার জগৎকে আরো বিস্তৃত করার সুযোগ পেয়েছি। প্রতিটি ক্লাস, প্রতিটি স্টুডিও সেশন এবং প্রতিটি প্রকল্প যেন আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, নতুনভাবে পৃথিবীকে দেখতে শেখায়। হাবিপ্রবি সৌন্দর্য শুধু একাডেমিক পরিমণ্ডলেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো, বিশেষ করে বসন্তে ফুলে ভরে ওঠা জারুল গাছ, প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও মনকে এক অনাবিল প্রশান্তি দেয়। চারতলার স্টুডিও থেকে দেখা সবুজের বিস্তার আর আকাশের রঙ বদলের দৃশ্য আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ।
এখানে এসে আমি শুধু জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাইনি, পেয়েছি একটি নতুন পরিবার। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা, দলগত কাজ, রাত জেগে প্রকল্প সম্পন্ন করা কিংবা একে অপরের ভুল-ত্রুটি শুধরে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে অমূল্য সব স্মৃতি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একদিন হাবিপ্রবি তার সব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরো উজ্জ্বল অবস্থান তৈরি করবে। আর সেই অগ্রযাত্রার ক্ষুদ্র একজন অংশীদার হতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করব। প্রিয় বিদ্যাপীঠের সঙ্গে জড়িয়ে থাকুক আরো অসংখ্য অর্জন, আরো অসংখ্য স্মৃতি- এই প্রত্যাশাই রইল।
ফাইবা ফারজাত নাশিতা
স্থাপত্য বিভাগ
শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২৬
"








































