মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান

  ০১ মার্চ, ২০২২

নাইক্ষ্যংছড়ির শৈলচূড়া ও দুর্বিণে পর্যটনের হাতছানি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন। সার দেশে পরিচিত একটি স্পট। এবার সেখানে যুক্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় আরো একটি স্পট। নতুন এই পর্যটন ঘিরে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়িতে। প্রতিদিনই সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকদের ভিড় জমছে নতুন এই স্পটে। সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে নীলাচলের আদলে এই পর্যটন স্পট হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয়। কেউ শৈলচূড়া আবার কেউ দুর্বিণ নামে পরিচিতি করে তুলেছে এই পর্যটন স্পটকে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে সোনাইছড়ি ইউনিয়নে পাহাড়ি চূড়ায় গড়ে উঠেছে এই পর্যটন স্পট। পাহাড় এবং আকাশের মিতালির এক অপূর্ব নিদর্শন এই শৈলচূড়া কিংবা দুর্বিণ পর্যটন। যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ি দৃশ্য খুবই মনোরম। চারপাশের সবুজ পাহাড় আর বনরাজি দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। নতুন স্পটে দাঁড়ালে নৈস্বর্গিক প্রকৃতি যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করে।

শৈলচূড়ায় ঘুরতে আসা ইফতেখার, মামুন, ফয়সালসহ একাধিক পর্যটক জানান, পরিকল্পিতভাবে আরো কিছু স্থাপনা গড়ে উঠলে নৈসর্গিক সৌন্দর্য স্বচক্ষে দেখতে পর্যটন প্রেমিরা ছুটে আসবে এই শৈলচূড়া বা দুর্বিণে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ ফুট উঁচুতে এই স্পট থেকে সূর্যোদয় যেমন সহজেই দেখা যায়, তেমনি পশ্চিম আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে সূর্য ডোবার অপূর্ব ক্ষণ নজর কাড়ে সাধারণ পর্যটকদের। এই দৃশ্য যে কাউকে বিমোহিত করে। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে সূর্যাস্ত ও পাহাড়ি প্রকৃতি দেখতে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীর ভিড়। পর্যটকদের সুবিধার্থে পাহাড়ি চূড়ায় হয়েছে রেস্টুরেন্টও।

জানতে চাইলে শৈলচূড়া ক্যাফের পরিচালক রাসেল ইব্রাহিম বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে শৈলচূড়ার যাত্রা। এই পর্যটনের মাধ্যমে পুরো নাইক্ষ্যংছড়ির পরিচিতি যাতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা। এই প্রসঙ্গে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যানিং মারমা বলেন, শৈলচূড়া বা দুর্বিণ পর্যটন সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন স্পট। প্রতিদিন সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। সোনাইছড়ির বিভিন্ন স্থানে পর্যটনে বিনিয়োগ করার আগ্রহ রয়েছে অনেকের। মানুষের চলাচলের সুবিধা ও নিরাপত্তা জোরদারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস বলেন, ‘নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ও সোনাইছড়ি পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানকার প্রত্যেক ইউনিয়ন ভিন্ন ভিন্ন রকমের সুন্দর। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতগুলো উন্নয়নে কাজ করছে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়