জিয়াউর রহমান

  ৭ ঘণ্টা আগে

বাজেটের ইতিবৃত্ত ও জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়। বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়ন করা হয় জুন মাসে এক বছরের জন্য, যা বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদে কার্যকর থাকে। মূলত সরকারের নির্দিষ্ট সময়ের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন) দেশের আর্থিক পরিকল্পনার সুষ্ঠু চিত্র প্রতিফলিত হয় বাজেটের মাধ্যমে। বাজেট হচ্ছে একটি দেশের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের হিসাব। সরকারকে দেশ চালাতে হয়, সরকারের হয়ে যারা কাজ করেন, তাদের বেতন দিতে হয়, আবার নাগরিকদের উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে হয়। সুতরাং একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে কোথায় কত ব্যয় হবে, সেই পরিকল্পনার নামই বাজেট।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৭ (১) অনুচ্ছেদে ‘বাজেট’ শব্দটি ব্যবহারের পরিবর্তে সমরূপ শব্দ ‘বার্ষিক আর্থিক বিবরণী’ (অ্যানুয়াল ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট (এএফএস) ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতি বছর জুন মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী বাজেট বিল আকারে পেশ করেন। ১১ জুন ২০২৬ তারিখে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। এটি দেশের ৫৫তম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। একইসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।

স্বাধীনতা-পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতির বাংলাদেশে মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার দেশের প্রথম বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন জাতীয় নেতা ও তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ একইসঙ্গে ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর অর্থাৎ দুই অর্থবছরের বাজেট ১৯৭২ সালের ৩০ জুন ঘোষণা করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভঙ্গুর অর্থনীতির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে প্রথম বাজেটটি ছিল বিদেশি অনুদান ও ঋণনির্ভর, যেটিকে তিনি আখ্যা দিয়েছিলেন ‘উন্নয়ন, পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন বাজেট’। এবার ঘোষিত বাজেট স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের প্রায় ১ হাজার ২০০ গুণ, যার শিরোনাম ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।

একটি দেশের বাজেট ঘোষণার পর সেটি নিয়ে যেভাবে আলোচনা হয়, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া ততটা সহজ নয়। কেননা প্রতিটি দেশের জন্য প্রণীত বাজেটের কাঠামো ও আইনি ভিত্তিও বহুমাত্রিক। প্রতি বছর সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেন, সেই ‘বাজেট’ শব্দের উৎপত্তি নিয়েও রয়েছে বিস্তর বিতর্ক। কেননা ‘বাজেট’ একটি ইংরেজি শব্দ। সাবেক অর্থ সচিব ও অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খান তার রচিত ‘বাংলাদেশে বাজেট : অর্থনীতি ও রাজনীতি’ বইয়ে লিখেছেন, মধ্যযুগের ইংরেজি ‘বুজেট’ (ইড়ঁমবঃঃব) থেকে বাজেট শব্দের উৎপত্তি। বুজেট শব্দের অর্থ মানিব্যাগ বা টাকার থলি। বাংলায় থলির সমার্থক বোঁচকা-পোঁটলা। বাংলা একাডেমির বিবর্তনমূলক অভিধানে উল্লেখ রয়েছে, বাংলায় ‘বাজেট’ শব্দটি ১৯০২ সালে প্রথম ব্যবহার করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাজেটের উৎপত্তি হয়েছে আজ থেকে প্রায় ৩৫০ বছর আগে। ১৭২৫ থেকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত রবার্ট ওয়ালপুল যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী এবং কার্যত প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি সারা বছরই কর কমানো বা কর বাতিলের দাবি পেতেন। এসব তিনি একটি ‘বুজেটে’ বা মানিব্যাগে ভরে রাখতেন। অর্থবছরের শেষ দিকে যখন বাজেট তৈরির কাজ শুরু হতো, তখন তিনি কাগজগুলোর ভিত্তিতে আয়-ব্যয়ের হিসাব দাঁড় করাতেন, অর্থাৎ বাজেট প্রণয়ন করতেন। সেই থেকে ‘টাকার থলি’ বা ‘বাজেট’ হয়ে গেছে সরকারের বার্ষিক হিসাব-নিকাশের প্রতিশব্দ। সুতরাং ইতিহাস বলে, বাজেট ব্যবস্থার উৎপত্তি মানিব্যাগ থেকে। শিল্পবিপ্লবের পর ইংল্যান্ডের অর্থনীতি অনেক বড় হয়। ফলে বাজেট-সংক্রান্ত প্রস্তাবও বাড়তে থাকে। এত বেশি দাবি আসতে থাকে যে, এসব প্রস্তাব শুধু একটি মানিব্যাগে সংকুলান সম্ভব হয় না। ফলে মানিব্যাগের জায়গায় আসে ব্রিফকেস। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী সংসদের বাজেট অধিবেশনে ব্রিফকেস নিয়ে যান এবং ব্রিফকেসের ভেতরে থাকে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যের কপি।

মহান জাতীয় সংসদে প্রতি বছর জুন মাসে অর্থমন্ত্রী বিল আকারে যে বাজেট উপস্থাপন করেন, তার আইনি ভিত্তি মূলত বাংলাদেশের সংবিধান। সংবিধানের ৮৭(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- ‘প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সম্পর্কে উক্ত বৎসরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি’, যা ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ বা অঋঝ নামে অভিহিত। অর্থাৎ সংবিধানে স্পষ্টভাবে ‘বাজেট’ শব্দটি উল্লেখ নেই; আছে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’। মূলত এ বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিই ‘বাজেট’ নামে অভিহিত। সংবিধানের পঞ্চম ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের আওতায় ৮১ থেকে ৯৩ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনার ভিত্তি বর্ণিত আছে। তাছাড়া সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘অর্থ-বৎসর’ অর্থ জুলাই মাসের প্রথম দিবসে যে বৎসরের আরম্ভ।

বাংলাদেশের সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেন, তার রীতি বর্ণিত আছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ষোড়শ অধ্যায়ে ‘আর্থিক বিষয়াবলী সংক্রান্ত কার্যপদ্ধতি’ শিরোনামে বাজেট, মঞ্জুরি দাবি, নির্দিষ্টকরণ বিল, সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরি এবং ঋণের ওপর ভোট, ছাঁটাই প্রস্তাব, প্রস্তাবের ওপর আলোচনা, আলোচনার জন্য স্পিকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত সময় ইত্যাদির বিশদ বর্ণনা রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১১১(১) বিধিতে বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিকে ‘বাজেট’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১১১(২) বিধিতে বলা হয়েছে, ‘এই ব্যাপারে সংবিধানের বিধানসাপেক্ষে অর্থমন্ত্রী যেরূপ উপযোগী মনে করেন, সেই আকারে বাজেট সংসদে পেশ করিবেন।’

১৯৭২ সাল থেকে সংসদে বাজেট উপস্থাপন করা হলেও ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট কোনো আইন ছিল না। ফলে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রিত হতো রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধির মাধ্যমে। ২০০৯ সালে সংবিধানের ৮৫ অনুচ্ছেদের বিধানসাপেক্ষে বাংলাদেশে প্রণীত হয় ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন-২০০৯’। বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয় ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন-২০০৯’, সচিবালয় নির্দেশমালা-২০২৪, রুলস অব বিজনেস-১৯৯৬, জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস ইত্যাদির বিধিবিধান অনুযায়ী। সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রপতির সুপারিশ নিয়ে অর্থ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উত্থাপন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী সংসদে বাজেট বিল আকারে উপস্থাপনের পর উত্থাপিত বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনা, তর্ক ও বিতর্ক হয়। সংসদে উত্থাপিত অর্থবিল সংসদ সদস্যদের অনুমোদনের পর আইনে পরিণত হয় এবং তা পরবর্তী অর্থবছরের জন্য কার্যকর হয়। বাংলাদেশে প্রণীত বাজেটের অংশ মূলত তিনটি। প্রথম ভাগে থাকে আয়ের হিসাব। অর্থাৎ প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের সম্ভাব্য আয়ের হিসাব থাকে। সরকারের সম্ভাব্য আয়ের উৎস তিনটি-জনগণ কর্তৃক প্রদেয় কর (এনবিআর ও অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক আদায়কৃত কর), করবহির্ভূত আয় (ফি, লভ্যাংশ, অর্থদণ্ড, জরিমানা ইত্যাদি), বৈদেশিক অনুদান।

বাজেটের দ্বিতীয় ভাগে থাকে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব। বাজেটের সম্ভাব্য ব্যয় চারটি ভিন্ন খাতে বিভক্ত করা হয়- পরিচালন ব্যয়, খাদ্য হিসাবে ক্রয়, ঋণ ও অগ্রিম বাবদ পরিশোধ, উন্নয়ন ব্যয়। বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য দরকার আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব। ড. আকবর আলি খান তার ‘বাংলাদেশে বাজেট : অর্থনীতি ও রাজনীতি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যদি সঠিক আয়ের হিসাবে বাজেটের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়, তাহলে অনেক অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হবে। বাজেটের তৃতীয় ভাগে ‘অর্থ সংস্থান’ অংশে থাকে সম্ভাব্য ঋণের হিসাব। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হলে বাজেটকে বলা হয় ‘ঘাটতি বাজেট’। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সব বাজেটই ছিল ঘাটতি বাজেট। এবারও ব্যতিক্রম নয়। এ বছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে কিছুটা ঘাটতি থাকা ভালো। কেননা এতে অব্যবহৃত সম্পদের ব্যবহার বাড়ে, ঘাটতি পূরণের চাপ থাকে এবং অর্থনীতিতে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। তাদের মতে, সাধারণত জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি বাজেট গ্রহণযোগ্য। বাজেট ঘাটতি দুইভাবে পূরণ করা হয়Í বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। বৈদেশিক উৎস মূলত বৈদেশিক ঋণ। সরকার বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশ থেকে সহজ শর্তে ঋণ নেয়। এ উৎস থেকে বেশি ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে পারলে তা অর্থনীতির জন্য তুলনামূলকভাবে সহনীয়। কারণ এতে সুদের হার কম এবং পরিশোধের জন্য দীর্ঘসময় পাওয়া যায়। তবে শর্তও বেশি থাকে।

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকার দুইভাবে ঋণ নেয়- ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা। ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে সঞ্চয়পত্র। ‘ঘাটতি বাজেট’ নেতিবাচক শোনালেও এটি উন্নয়ন-সহায়ক। আইএমএফের তথ্যমতে, কাতার, লুক্সেমবার্গ, উজবেকিস্তানসহ পেট্রো-ডলারে সমৃদ্ধ হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ঘাটতি বাজেট দেওয়া হয়। দেশে দেশে বাজেট উপস্থাপনের নানা ঐতিহ্য রয়েছে। অধিকাংশ দেশেই অর্থমন্ত্রীদের ব্রিফকেস সঙ্গে নিয়ে সংসদে বাজেট ঘোষণার রেওয়াজ দেখা যায়।

তবে ভারতের বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন তার প্রথম বাজেট ঘোষণার সময় ব্রিফকেসের পরিবর্তে লালসালুতে মোড়া বাজেট ডকুমেন্ট সঙ্গে নিয়ে সংসদে প্রবেশ করেছিলেন। দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্যের লাল শাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওই বছরের বাজেট ডকুমেন্ট সাজিয়েছিলেন তিনি। কানাডায় ১৯৫০ সাল থেকে দেশটির অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশের আগের দিন নতুন জুতা কেনেন। সেই নতুন জুতা পায়ে দিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে যান এবং বাজেট পেশ করেন। বাংলাদেশের বাজেটের প্রতীক হলো ‘ব্রিফকেস’। আর এই ব্রিফকেসটি কেনা হয় অর্থ বিভাগের সেবা শাখার মাধ্যমে। ১১ জুন ২০২৬ তারিখে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। আর কর ছাড়া প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। এডিপিতে ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। ঘাটতির অর্থ জোগাতে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামের এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে মূলত ১০টি সেক্টরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো- সবার জন্য উন্নয়ন, সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ, প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

অর্থমন্ত্রী এবার বাজেটে এসব অগ্রাধিকারের পাশাপাশি মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, ক্রীড়া অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি ও সুনীল অর্থনীতির ওপর জোর দিয়েছেন এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। পরিশেষে বলা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫তম বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। আমরা আশাবাদী, সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

লেখক : সরকারি কর্মকর্তা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়