রংপুর ব্যুরো

  ৭ ঘণ্টা আগে

রমেক হাসপাতাল

রোগী মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসককে মারধর, সেবা বন্ধ, ভোগান্তি

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বে অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেছে রোগীর স্বজনরা। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবাসহ অন্যান্য সেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা।

জানা যায়, রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সি নুর নাহার বেগমকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শনিবার ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। এর ১৫ মিনিট পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ সময় নুর নাহার বেগমের পরিবারের সদস্যরা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম হোসেনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এদিকে ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে মৃত নুর নাহার বেগমের লাশ আটকে রাখার অভিযোগ এনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রোগীর স্বজনরা।

যা বলছেন রোগীর স্বজনরা : রোগীর জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অক্সিজেন মাস্ক না থাকায় ডাক্তারদের কাছে মজুদ থাকা মাস্ক চাওয়া হয়, কিন্তু তারা মাস্ক দেয়নি। এই মাস্ক কিনে আনতে গিয়ে অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা যায়। মৃত নুর নাহার বেগমের দেবর মোহাব্বত আলী বলেন, আমার ভাতিজা ভোরে তার মাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময় চিকিৎসকদের কাছে আমার ভাতিজা চিকিৎসা প্রদানের জন্য অনুরোধ করতে থাকে, কিন্তু চিকিৎসকরা সে সময় কোনো চিকিৎসা দেয়নি। যখন রোগী মারা যায় তখন ছেলে নিজের ক্ষোভ ধরে রাখতে না পেরে চিকিৎসকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে। আমার ভাতিজা যেহেতু ধস্তাধস্তি করেছে সেহেতু তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেই পারে প্রশাসন, কিন্তু লাশ আটকিয়ে রেখে চিকিৎসকরা যে মূর্খতার পরিচয় দিচ্ছে তার বিচার কী হবে।

জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা : ভোগান্তিতে অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে আসা রাকিব হোসেন বলেন, মানুষজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে গুরুতর রোগীকে নিয়ে। এখানে এসে দেখি জরুরি বিভাগে তালা মারা। বার বার অনুরোধ করার পরও চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে দিচ্ছে না।

গর্ভবতী স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে আসা সোহাগ মিয়া বলেন, অনেক দূর থেকে কষ্ট করে রংপুর হাসপাতালে এসেছি। আমার রোগী ব্যথায় কান্না করছে কিন্তু ডাক্তাররা ভর্তি করাতে দিচ্ছে না। এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থানও নেই রোগীর।

যা বললেন চিকিৎসক : ডা. মোহাম্মদ আসিফ বলেন, নুর নাহার বেগম নামে ওই রোগীকে হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয় ভোর ৪টা ৫ মিনিটে। ওই রোগী মারা যায় ৪টা ২০ মিনিটে। এই ১৫ মিনিট ওই রোগীকে সিপিআর ও অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। আমরা চিকিৎসকরা নিজেদের জায়গা থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করেছি।

জরুরি বিভাগ বন্ধ রেখে রোগীদের হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমাদের কর্মসূচি ছিল না। এটা মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ছিল। শিক্ষার্থীরা যখন প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাইতে গেছে তখন তাদের জানানো হয়েছে প্রশাসন অথর্ব, তোমাদের যা ইচ্ছা তাই করো। তখন শিক্ষার্থীরা জরুরি বিভাগ বন্ধ করে আন্দোলন করে। যখন চিকিৎসকদের মেরে ফেলা হচ্ছে তখন সাধারণ মানুষের মানবিকতা কাজ করে না, আর রোগীদের সেবায় ব্যাঘাত ঘটলে সাধারণ মানুষের মানবিকতা কাজ করে। এটা সত্যিই দুঃখজনক।

আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন : রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধর করা হয়েছে এ জন্য চিকিৎসকরা লাশ আটকিয়ে রেখেছিল। ফলে লাশ দিতে দেরি হয়েছে। অতীতেও রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপর হামলা হয়েছে। তখন আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করেছিলাম। এ ঘটনাতেও আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। যাতে করে ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা আর না ঘটে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়