জবি প্রতিনিধি
৬ মাস পার হলেও জকসু’র আলোচিত ৩ নারী সদস্যের নিষ্ক্রিয়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ছাত্রশিবির সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের আলোচিত বিজয়ী তিন নারী সদস্যের ক্রমাগত নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রমে তাঁদের অংশ নিতে না দেখায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে থাকা এই তিন প্রতিনিধি হলেন - বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সদস্য আন্তর্জাতিক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার জয়া, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নেত্রী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন এবং ইনকিলাব মঞ্চের আলোচিত নেত্রী কার্যনির্বাহী সদস্য শান্তা আক্তার।
তাঁরা প্রত্যেকেই গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম জকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই যুগ পর বহুল কাঙ্ক্ষিত জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা সমাধান এবং ক্যাম্পাস সংস্কারে এই প্রতিনিধিদের নিয়ে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সেমিনার, বিজ্ঞান ল্যাবের আধুনিকায়ন ও নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় তাঁদের পক্ষ থেকে নানা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৬ মাস পার হলেও তাঁদের কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে জোরালো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ভোটের আগে বড় বড় ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিজয়ী হওয়ার পর তাঁদের নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে থেকে দায়িত্ব পালন না করায় জকসু’র সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য শের আলী বলেন "এই তিন জনপ্রতিনিধির দীর্ঘদিনের রহস্যজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ছাত্রসংসদের কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় জকসু’র মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে পারে"৷
এই বিষয়ে জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন বলেন "শিক্ষার্থীদের আমানত খেয়ানত করবে না বলে, শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে বলে ধর্মকে ব্যবহার করে তারা শিবির সমর্থিত প্যানেল ধর্মের অবমাননা করেছে এর মাধ্যমে জকসুর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং আগামীতে জকসু হলে ছাত্র সংসদ এর উপর যেন শিক্ষার্থীরা আস্থা না থাকে তাদের পরিকল্পনা এই পথে আগাচ্ছে এরকমই বুঝা যাচ্ছে এবং একজন জকসুর সদস্য হিসেবে খুবই মর্মাহত এই ব্যাপারে"৷
এই বিষয়ে জকসু’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে এই অচল অবস্থা দূর করে ছাত্রসংসদকে পূর্ণ গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন।









































