জবি প্রতিনিধি
ক্ষোভে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছেন জবি শিক্ষার্থীরা
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন নিয়োগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন, বিতর্কিত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং অতীতের নানা অভিযোগে আলোচিত অধ্যাপক আইনুল ইসলামকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা এ নিয়োগকে জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের তার কক্ষ থেকে তাকে বের করে দেন শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।
আগামীকাল শুক্রবার লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেশনাল প্রোগ্রামের ওরিয়েন্টেশনে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল তার। এর আগে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন কাজে তার সঙ্গে যোগাযোগের খবর পান শিক্ষার্থীরা।
গত ৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বর্তমান ডিনের মেয়াদ ১১ জুলাই তারিখে ০২ (দুই) বছর পূর্ণ হবে বিধায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর ২২(৫) ধারা মোতাবেক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আইনুল ইসলামকে পরবর্তী ০২ (দুই) বছরের জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে নিযুক্ত করা হলো। এই আদেশ ১২জুলাই তারিখ হতে কার্যকর হবে। তিনি বিধি মোতাবেক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।
অধ্যাপক আইনুল ইসলাম বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নীল দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ১১ আগষ্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হোন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়, যখন দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছিল, তখন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ০৩ আগষ্ট গণভবনে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে অংশ নেন আইনুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আন্দোলন মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করেন। ঠিক তার পরের দিন ০৪ আগষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে নীল দলের ব্যানারে মানববন্ধন করেন।
জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোন শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা আর ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। কিন্তু মূল দোষীদের বিচার না করে, নিরপরাধ কোন শিক্ষককে যেন কোন মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো না হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে যে সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোন তদন্ত বা দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। জকসু থেকেও বার বার এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণে দাবী উঠালেও, প্রশাসন এই বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। যে সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মূখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বলেন, জুলাই বিরোধী একজন শিক্ষককে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন হিসেবে নিয়োগ পায়। বার বার বিচার চাওয়ার পর সেটার সুরাহা না করে তাকে পুরষ্কৃত করা হয়েছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে ক্যাম্পাসে থাকতে দিবনা। এর আগেও তাকে চলে যেতে বলা হয়েছে তিনি যাননি।









































