বৈঠক স্থগিত, কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজারই থাকছে

প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজারই থাকছে। সরকারের শীর্ষপযায় থেকে ‘গ্রিন সিগনাল’ পাওয়ার পরই এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক স্থগিত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে অনুরোধ জানায় অর্থ বিভাগ।
এতে বলা হয়, সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় সশস্রবাহিনী বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
বৈঠক স্থগিত হওয়ার কথা নিশ্চিত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো পত্র আসেনি। বিষয়টি স্থগিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ কারণে আমাদের বৈঠকও স্থগিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, সরকারের উপসচিব থেকে শুরু করে ওপরের স্তরের পদের সরকারি কর্মকর্তারা এত দিন গাড়ি কিনতে সুদমুক্ত ঋণ পেতেন ৩০ লাখ টাকা। গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ তারা প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা করে খরচ পেতেন। তাদের পাশাপাশি সশস্ত্রবাহিনীর মেজর থেকে শুরু করে ওপরের কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জেলা জজ থেকে ওপরের কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের সমপদের কর্মকর্তারাও পান। কয়েক দিন আগে এই সুবিধা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায় অর্থ বিভাগ।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে অর্থ বিভাগ বলেছে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণের পর গাড়ি সেবা নগদায়নের আওতায় মোটর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ আর্থিক সুবিধা পান তা কিছুটা কমানোর সুযোগ রয়েছে। মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসে ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার হারে নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এ অবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কীভাবে সেটা বাস্তবায়ন করা হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করে অর্থ বিভাগ।









































