মো: রায়েজুল আলম, শরীয়তপুর

  ১ ঘণ্টা আগে

সোনালী আঁশে হাসছে শরীয়তপুরের পাটচাষিরা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

ভালো ফলন ও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়ায় শরীয়তপুরের পাটচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর ব্যস্ততা। শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও, পাট ও পাটকাঠির ভালো দাম পেয়ে সেই বাড়তি ব্যয় অনায়াসেই পুষিয়ে নিতে পারছেন স্থানীয় কৃষকরা।

আবহাওয়া অনুকূলে, ফলন ও দামে সন্তুষ্টি: মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া পাট কাটার সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল-বিল ও জলাশয়ে সহজে পাট জাগ দিতে পারছেন কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠির বাজারদরও বেশ সন্তোষজনক।

আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পার: শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ২৯ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে জাজিরা উপজেলায় সর্বাধিক ১০ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এছাড়া শরীয়তপুর সদরে ৬ হাজার ২৬২ হেক্টর, নড়িয়ায় ৩ হাজার ৯৭৫ হেক্টর, ভেদরগঞ্জে ৩ হাজার ৭১০ হেক্টর, গোসাইরহাটে ৩ হাজার ৭৫৩ হেক্টর এবং ডামুড্যায় ১ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে।

মাঠে মাঠে ব্যস্ত কৃষকেরা: সম্প্রতি জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি থেকে পাট কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকেরা খেত থেকে পাট কেটে জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন। এরপর ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা আঁশ রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায় কিংবা বাঁশের আড়ে ও ব্রিজের ওপর শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

যা বলছেন মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা: জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাডোবা ইউনিয়নের মাদবরকান্দি গ্রামের কৃষক ফয়জুল বেপারী জানান, শ্রমিক সংকট ও মজুরি বাড়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও ফলন ভালো হওয়ায় তারা লোকসান থেকে বেঁচে গেছেন। অন্যদিকে নড়িয়া উপজেলার দরবেশখার কান্দি গ্রামের কৃষক শাহজামাল মুন্সি বলেন, বিগত ৫-৭ বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন অনেক ভালো। প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, বাজারদর আরেকটু বাড়লে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হতেন।

৬৬৫ কোটি টাকার বেশি বিক্রির আশা: শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, জেলার মাটি পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলন বাড়াতে প্রণোদনা হিসেবে ৪ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার ১০০ বেল পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬৫ কোটি টাকারও বেশি। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া পাট কর্তন সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পুরোপুরি শেষ হবে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়