কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১ জন আসামি গ্রেপ্তার করেছে র্যাব - ৪

বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র্যাব ইতোমধ্যে জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
র্যাব-৪ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি নৃশংস অপরাধে জড়িত পলাতক অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকালে ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার হতে পলাতক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আব্দুল্লাহ শিকদার (২৪)’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ আব্দুল্লাহ শিকদার (২৪) গোপালগঞ্জের একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছিল। কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার, গাজীপুরে বন্দী থাকা অবস্থায় গত ০৫ আগস্ট ২০২৪ সরকার পতনের পর সহিসংতা ও উদ্ভূত সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে ০৬ আগস্ট ২০২৪ সকালে কারাগারের ভবন থেকে কারাবন্দীরা বের হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। বন্দীরা কারাগারের ভিতরে কারারক্ষীদের জিম্মি করে পালায়নের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কারাবন্দী মোঃ আব্দুল্লাহ শিকদারসহ অন্য বন্দীরা বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে মই তৈরী করে। ওই মই বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে মোঃ আব্দুল্লাহ শিকদারসহ বিপুল সংখ্যক কারাবন্দী পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় জেল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে কোনাবাড়ী থানায় জেল পলাতক আসামিদের নামে একটি মামলা দায়ের করে।
উক্ত ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। এ ঘটনার পর থেকে র্যাব পলাতক বন্দীদের গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আব্দুল্লাহ শিকদার(২৪) কারাগার হতে পালিয়ে যাওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে আত্মগোপনে থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিল। পরবর্তীতে গোয়েন্দা ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হই যে, সে দারুস সালাম থানা এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকালে ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার হতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আব্দুল্লাহ শিকদার (২৪)’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মোঃ আব্দুল্লাহ শিকদার (২৪) তার অপর ২ সহযোগীসহ সুদের পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে ০৭ অক্টোবর ২০২১ তারিখ প্রতিবেশী লুৎফর রহমানকে হাতুড়ি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। উক্ত ঘটনায় গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া থানায় ২(১০)২১ ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে পলাতক আসামী মোঃ আব্দুল্লাহ শিকদারসহ ২ সহযোগীকে উক্ত মামলা মূলে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ আদালত বিচারকার্য শেষে আসামি মোঃ আব্দুল্লাহ শিকদারসহ ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। পরবর্তীতে তাদেরকে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।









































