সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত সিরাজগঞ্জের জনজীবন, নদীভাঙন ও ফসলহানির আশঙ্কা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

গত দুই দিন ধরে টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণে সিরাজগঞ্জের সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক কাজকর্ম, ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সকালে অফিসগামী চাকুরিজীবী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েন।

ফাঁকা রাস্তাঘাট, দ্বিগুণ ভাড়া: টানা বৃষ্টির প্রভাবে সিরাজগঞ্জ শহরের খানাখন্দ ও নিচু এলাকাগুলো ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট প্রায় যানবাহন শূন্য ও ফাঁকা। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। দু-একটি রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। কিছু কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি একেবারেই নেই।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। শহরের রিকশাচালক ইমান আলী তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে কাজে বের হতে পারি নাই। এখন একটু বৃষ্টি কমায় বের হয়েছি, কিন্তু রাস্তায় কোনো যাত্রী নাই।"

চরাঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি ও নদীভাঙন: এদিকে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থির থাকলেও বৃষ্টির কারণে নদীপাড় ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জেলার চৌহালী, কাজীপুর, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে, যা ভাঙনকবলিত মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চরের বাসিন্দারা চরম বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও জীবন-জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে যাতায়াত করছেন।

কাওয়াকোলা চরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে আমাদের চরের মানুষের কষ্ট অনেক বেড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীর পার দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না।"

আমনে সুবিধা, সবজি খেতে ক্ষতির আশঙ্কা: চলমান আবহাওয়া কৃষি খাতে মিশ্র প্রভাব ফেলছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, "চলমান এই বৃষ্টির ফলে কৃষকদের রোপা আমন ধান চাষে বেশ সুবিধা হবে। তবে যেসব সবজি খেতে পানি জমে থাকবে, সেগুলোতে ক্ষতির বড় আশঙ্কা রয়েছে। আমি কৃষকদের দ্রুত সবজির জমি থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।"

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফসলের ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়