গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ১ ঘণ্টা আগে

উত্তরবঙ্গের প্রধান পর্যটন হাব হতে পারে সিরাজগঞ্জ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

ঐতিহাসিক স্থাপনা, যমুনার দিগন্তজোড়া জলরাশি আর মনকাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা জেলা সিরাজগঞ্জ। প্রতিদিন হাজারো ভ্রমণপিপাসু ও বিনোদনপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হয় এ অঞ্চলের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে এই জেলাটি হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির মেলবন্ধন: সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু, চলনবিল এবং সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ বা যমুনা ক্লোজারের অপার সৌন্দর্য জেলাটিকে পর্যটনসমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে দেশজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছে। প্রকৃতির পাশাপাশি বিখ্যাত সব স্থাপত্য ও শিল্পকর্মের নিদর্শনে সমৃদ্ধ এই জেলা।

এখানে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাচারিবাড়ি, উল্লাপাড়ার ঐতিহাসিক নবরত্ন মন্দির, এনায়েতপুর দরবার শরিফ ও শতবর্ষী ইলিয়ট ব্রিজ। এছাড়া দেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ খামার ‘বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটা’, বেহুলার বাড়ি, জয়সাগর দীঘি, সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্ট, শাহজাদপুরের দুই গম্বুজ মসজিদ, যমুনা সেতু ইকোপার্ক, রাউতারা জমিদার বাড়ি ও রিং বাঁধ দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণ। এই মাটিতেই রয়েছে কান্তকবি রজনীকান্ত সেন, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর বসতভিটা এবং উপমহাদেশের প্রখ্যাত নায়িকা সুচিত্রা সেনের জন্মস্থান।

নাগরিক সুবিধার অভাব: সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন বিকেল হলেই যমুনা নদীর ‘ক্লোজার’ এলাকায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমে। পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই এখানে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে আসেন। বিশেষ করে ঈদ বা সরকারি ছুটির দিনগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। বর্ষা মৌসুমে নদীর বুকে স্পিডবোট কিংবা নৌকায় চড়ে প্রকৃতির অনন্য রূপ উপভোগ করা যায়। একই সাথে নদী থেকে দেখা যায় যমুনা সেতু ও নির্মাণাধীন যমুনা রেলসেতুর নান্দনিক দৃশ্য।

তবে অপার সম্ভাবনা থাকলেও এখানে এখনো গড়ে ওঠেনি ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। দর্শনার্থী আবুল হোসেন ও সাইমা বেগম বলেন, "প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য ক্লোজার অসাধারণ একটি জায়গা। কিন্তু এখানে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, ফলে পরিবার নিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা কষ্টকর। পরিকল্পিতভাবে বসার স্থান ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা গেলে এটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।"

নারী পর্যটক তানিয়া আক্তার ও রোজিনা আক্তার জানান, এখানে নারীদের জন্য আলাদা বিশ্রামাগার, নিরাপদ টয়লেট, মানসম্মত রেস্টুরেন্ট, হোটেল কিংবা শিশুদের খেলার কোনো রাইড নেই। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ঢল নামবে।

বিপুল বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, "যমুনা ক্লোজার শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, এটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও বড় ক্ষেত্র। এখানে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, জলক্রীড়া ও পরিবহন খাতে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হবে এবং জেলাজুড়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।"

প্রশাসনের আশ্বাস: সার্বিক বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "যমুনা ক্লোজারকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং জেলা প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এখানে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।"

তিনি আরও জানান, দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন এবং বিনোদন সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়