আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

কণ্ঠ নকল করে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখাতেন 'জীনের বাদশা'ম প্রতারক আটক

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

কখনো দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কখনো জেলা জজ, কখনো নামী হজ এজেন্সির মালিক, আবার কখনো এমবিবিএস ডাক্তার—এমন হরেক রকমের ভুয়া পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন তিনি। একা ১০ জনের কণ্ঠ নকল করার অদ্ভূত ক্ষমতার অধিকারী এই ব্যক্তির নাম হাফেজ রুহুল আমিন (৩৬)। নিজেকে 'জীনের বাদশা' দাবি করা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গোন্তা গ্রামের এই কথিত প্রতারক অবশেষে বগুড়ার আদমদীঘিতে স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েছেন। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হাতেনাতে আটকের পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়নি। উল্টো উপজেলা সদরের 'সিয়াম আবাসিক হোটেল'-এর একটি কক্ষে তাকে একপ্রকার 'জামাই আদরে' রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুহুল আমিন প্রায় ছয় মাস ধরে আদমদীঘি সদরের সিয়াম হোটেলে রুম ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। এলাকায় ফেরি করে আতর ও সুরমা বিক্রির আড়ালে মূলত বড় ধরনের প্রতারণাই ছিল তার মূল পেশা। এই ব্যবসার সূত্র ধরেই তার পরিচয় হয় আদমদীঘি সদরের বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনের এক পান দোকানি জাকির হোসেনের সাথে। সরল বিশ্বাসে জাকির তাকে আপন করে নেন এবং যখন যা প্রয়োজন তা মিটিয়ে নিজের দোকানে ও হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করেন। একপর্যায়ে জাকিরের পুরো পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন রুহুল আমিন।

পরবর্তীতে জাকিরের দুই ছেলেকে লন্ডনে পাঠানো এবং জাকির ও তার স্ত্রীকে সরকারি খরচে হজে নিয়ে যাওয়ার মতো লোভনীয় ও মুখরোচক প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করেন এই প্রতারক। শুধু তাই নয়, সুকৌশলে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে কখনো দেশের শীর্ষ নেতা, কখনো জজ বা বড় ডাক্তারের কণ্ঠ নকল করে জাকিরের সাথে কথা বলতেন রুহুল আমিন। এই অভিনব প্রতারণা ও কথিত তাবিজ-কবজের ফাঁদে ফেলে সরলমনা পান দোকানির কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

প্রতারণার এই নাটকীয় সমাপ্তি ঘটে গত ৩০ জুন রাতে। সেদিন রুহুল আমিনকে খাসির মাংস দিয়ে আপ্যায়নের জন্য নিজের বাড়িতে দাওয়াত করেন জাকির হোসেন। ভুরিভোজ শেষে কথাবার্তার একপর্যায়ে রুহুল আমিনের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং তার সব চাতুরতা ফাঁস হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাকে ধরে উত্তম-মধ্যম দেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এদিকে হোটেলে আটকে থাকা অবস্থায় প্রতারক রুহুল আমিন নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, "আমি প্রতারণা করে জাকিরের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, এটা সত্য। তারা আমাকে আটকে রেখেছে এবং টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করেছে। পরিবারের সাথে কথা হয়েছে, তারা এসে টাকা ফেরত দিলে বিষয়টির মীমাংসা হবে।"

টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সত্যতা মেলার পরও একজন চিহ্নিত প্রতারককে থানায় না দিয়ে আবাসিক হোটেলে আটকে রাখায় স্থানীয় জনমনে নানা রহস্য ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, এই ধরনের কোনো ঘটনা এখন পর্যন্ত তার জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়