রাজবাড়ী প্রতিনিধি

  ৩ ঘণ্টা আগে

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শন করলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। এ সময় তিনি ৫ নম্বর ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, ৫ নম্বর ফেরিঘাটে অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি করতে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে একটি সংবাদ প্রচার হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। না জেনে না বুঝে সংবাদ পরিবেশন করা হলে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। শিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা জেনে-বুঝে সংবাদ পরিবেশন করার অনুরোধ জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি বুধবার বিকেল ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নির্মাণাধীন ৫ নম্বর ঘাট এবং ৪ নম্বর ঘাটের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, "দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি সংবাদ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নজরে এসেছে সংবাদটি। তিনি প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য আমাকে ডেকেছিলেন। আমি তাঁর নির্দেশেই আজ (বুধবার) সরজমিনে এখানে এসেছি। শিডিউলে বাঁশের ব্যবহার থাকার পরও না জেনে সংবাদ করাটা সঠিক হয়নি।"

তিনি আরও বলেন, "বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ফেরিঘাটে যে অ্যাপ্রোচ সড়কগুলো নির্মাণ করা হয়, সেগুলো বাঁশ দিয়েই করা হয়। ১৯৬৩ সাল থেকে এভাবেই দেশের ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কগুলো নির্মিত হয়ে আসছে। আমি কাজের শিডিউল সংগ্রহ করেছি। শিডিউলে বাঁশের ব্যবহারের কথাই বলা রয়েছে। ফেরিঘাটে সাধারণত নদীভাঙন হয়ে থাকে, তাই রড দিয়ে সেখানে কোনো কাজ করা হয় না। তাছাড়া বাঁশ দিয়ে কাজ করলে কারিগরি কোনো সমস্যাও হয় না। বহু বছর ধরে এভাবেই হয়ে আসছে। হঠাৎ করে এ ধরনের একটি সংবাদে সরকার বিব্রত হয়েছে। আশা করছি আপনারা ভবিষ্যতে আরও খোঁজখবর নিয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করবেন।"

এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক বলেন, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ দৌলতদিয়া ঘাটে কী কাজ করছে, সে সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করে না। ফোন দিয়েও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। এমনকি কাজের বিস্তারিত তুলে ধরে কোনো সাইনবোর্ডও টাঙানো হয় না।

এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে আগামীতে এখানে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই কাজের বিস্তারিত উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙানো থাকবে। তিনি আরও বলেন, ফেরিঘাটে সাধারণত ঘাটগুলো দুই থেকে তিন মাসের বেশি থাকে না। নদীর পানি ওঠানামা ও তীব্র ভাঙনের কারণে এখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বাস্তবসম্মত নয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে সাম্প্রতিক সময়ে দুটি বাস ডুবির ঘটনার পর এখানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেরিতে যাত্রীবাহী বাস ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিটি ফেরিঘাটে হাইড্রোলিক ব্যারিয়ার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) মো. আশিকুজ্জামান, আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মো. সালাম হোসেন, পরিচালক (কারিগরি) হাসেমুর রহমান, বিআইডব্লিউটিসির এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন প্রমুখ।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়