নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১ ঘণ্টা আগে

সাভারের ভাকুর্তায় সীসা পোড়ানো তিনটি খোলা ভাট্টি উচ্ছেদ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর

সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় নির্জন উন্মুক্ত স্থানে পুরনো ব্যাটারি অবৈধভাবে পুড়িয়ে সীসা উৎপাদন করে আসছে বেশ কয়েকজন রাঘববোয়াল। উন্মুক্ত স্থানে অবৈধভাবে সীসা পোড়ানোর কারণে সাভার এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়, মানুষ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা জেলার পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সদর দপ্তরের মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ উদ্যোগে সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় নামবিহীন তিনটি খোলা ভাট্টির ছয়টি চুল্লী এস্কাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ দূষণকারী সীসার খোলা ভাট্টিতে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর মোবাইল কোর্টের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। ওই মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হোসেন। মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালনায় সাভার থানা প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা প্রদান করে।

ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের অভিযান চলাকালে আমরা সেখানে কাউকে উপস্থিত পাইনি। যার ফলে কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। এক্ষেত্রে জরিমানা করার সুযোগ হয়নি। কারণ কে বা কারা এ কাজগুলো করেছেন সেটি জানা সম্ভব হয়নি। যার ফলে আমরা ভাট্টিগুলো উচ্ছেদ করি। আবারো অবৈধভাবে এমন কাজ করলে পরিবেশ অধিদপ্তর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে। তবে এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কেউ তথ্য দিতে চায় না, কে বা কারা এই অবৈধ কাজগুলো করে।

অবৈধভাবে সীসা পোড়ানো চক্রের বিষয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেটের নাম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজধানীর ধোলাইপাড়ের নাসির এবং গাইবান্ধার সাজুবাহিনী। এই চক্র পুরোনো ব্যাটারি কিনে তা পুড়িয়ে সীসা উৎপাদন করে কালোবাজারে কোটি টাকায় বিক্রি করে। যার প্রায় অর্ধেক লাভই তারা ঘরে তোলে৷ কারণ খোলা ভাট্টির দুষ্কৃতকারীরা সরকারকে কোন ভ্যাট ট্যাক্স দেয় না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় , গতকাল উচ্ছেদ হওয়া খোলা ভাট্টিগুলো রাজধানীর ধোলাইপাড়ের নাসির এবং গাইবান্ধার সাজুবাহিনীর। তবে অভিযুক্ত দুষ্কৃতকারী নাসির ও সাজুর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে নাসির বলেন, আসলে দেশের অনেকেই এই প্রক্রিয়ায় কাজ করে শুধু আমরাই না। এটি বেআইনি কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে নাসির বলেন , এটা বেআইনি বলেই তো সরকারের লোকজন এসে উচ্ছেদ করেছে।

অনুসন্ধান সূত্র জানায়, সাভারের ভাকুর্তায় উচ্ছেদকৃত সীসা পোড়ানো তিনটি খোলা ভাট্টি তারই। এ বিষয়ে গাইবান্ধার সাজুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উচ্ছেদকৃত ভাট্টিগুলো ধোলাইপাড়ের নাসিরের। এ চক্রের আরও অনেক সদস্য জড়িত রয়েছে।

অন্যদিকে খোলা ভাট্টিতে (উন্মুক্ত স্থানে) সীসা বা পুরনো ব্যাটারি পোড়ানোর ধোঁয়া মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ। তাঁরা আরও জানান, খোলা স্থানে ব্যাটারি পোড়ানোর ধোঁয়ায় মানবদেহে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ বাসা বাঁধে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্মুক্ত স্থানে সীসা জাতীয় পদার্থ পোড়ানোর বিষক্রিয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়।

বিপুল পরিমাণ পুরোনো অকেজো ব্যাটারির সীসা পুড়িয়ে ব্যাটারি তৈরির উপাদান উৎপাদনের জন্য কঠোর আইনকানুনের বেড়াজালে দেশে বেশকয়েকটি ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্প-কারখানার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অনুমোদিত ব্যাটারি রিসাইক্লিং কোম্পানি থেকে নিয়মিত ভ্যাট ট্যাক্স পেয়ে থাকে সরকার এবং প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। এছাড়া কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়াও আইন মেনে আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশুদ্ধ করা হয়৷ অথচ অবৈধভাবে গোপনে সীসা পোড়ানো চক্রের নেটওয়ার্ক রয়েছে দেশব্যাপী। এদের অপকর্মে সরকার অনুমেদিত ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্প মালিকগণ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব এবং প্রাকৃতিক পরিবেশও পড়ছে হুমকিতে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের স্পষ্ট বার্তা—যেকোনো মূল্যে সীসা পোড়ানো অবৈধ খোলা ভাট্টি পরিচালনাকারীদের নির্মূল করা হবে৷ এজন্য মোবাইল কোর্টের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়