reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

শার্শায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, সুপারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষের (সুপার) বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করা, কু-প্রস্তাব দেওয়া এবং পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বুধবার (১ জুলাই) শার্শা থানায় এই অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মমিনুল ইসলাম, তিনি ওই মাদ্রাসার সুপার হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সুপার মমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। লোকলজ্জা ও ভয়ে বিষয়টি ওই ছাত্রী এতদিন পরিবারকে জানাতে পারেনি। তবে সম্প্রতি শিক্ষকের অনৈতিক আচরণ ও মানসিক নির্যাতন অসহনীয় হয়ে উঠলে সে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষিপ্ত হন। ভুক্তভোগীর প্রস্তাবে রাজি না হলে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়া এবং ক্যারিয়ার ধ্বংস করাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেন তিনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুন রাতে অভিযুক্ত মমিনুল ইসলাম জোরপূর্বক ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। তিনি ছাত্রীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। একপর্যায়ে তিনি ছাত্রীর হাত চেপে ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং চলে যান।

সর্বশেষ গত ২৯ জুন অভিযুক্ত সুপার ছাত্রীর বাবার হাতে একটি পত্র ধরিয়ে দিয়ে জানান, তার মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে টিসি (ছাড়পত্র) দিয়ে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বেও উক্ত সুপারের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের আরও দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নতুন করে এই লিখিত অভিযোগের পর এলাকায় আবারও উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই লম্পট শিক্ষকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়