মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

  ৩ ঘণ্টা আগে

মৌলভীবাজারে আপন ভাইকে হত্যার অভিযোগে ৪ ভাইবোনসহ গ্রেপ্তার ৫

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

মৌলভীবাজারে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আব্দুল মতিন নামের আপন ভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নিহতের ৩ ভাই, এক বোন ও এক ভাইয়ের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ এই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।

থানা-পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ভুক্তভোগী আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। গত ২৮ জুন আদালতে মতিনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই ভাই মজিদ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ জানায়, সেদিন সকালে আব্দুল মতিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা পরিকল্পনাকারীদের দলটি তাকে অনুসরণ করে। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের ঢালের পাকা রাস্তার ওপর মরদেহ ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান।

কিন্তু সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির অদূরেই স্বামীর হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরে খবর পেয়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমা এবং অতিরিক্ত police সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ দল (টিম) তদন্তে নামে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়