কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারে ১৪ বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন

গত ১৪ বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে কক্সবাজারে। কক্সবাজারকে ঢেলে সাজানোর জন্য নেওয়া হয় মেগা প্রকল্প। এসব মেগা প্রকল্প শেষ হয়েছে কিছু অংশ। কিছু অংশ শেষ পর্যায়ে আর কিছু চলমান। উন্নয়ন হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে। শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের যোগাযোগের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কক্সবাজারে কাজ করেছে সরকার।
জানা গেছে, মাতারবাড়ী ও ধলঘাটায় ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, হোয়ানক, হেতালিয়া, কালারমারছড়া, হরিয়ারছড়া, পানিরছড়া, অমাবশ্যাখালীতে ৮৫০০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ীতে ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প, পেকুয়ার উজানটিয়ায় ইজিসিবি লিমিটেড কর্তৃক ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলমান রয়েছে।
সূত্রে আরো জানা যায়, সেনাবাহিনীর মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ প্রকল্প, চকরিয়ার বদরখালী সড়কের বাটাখালী সেতুর দুই কিলোমিটার এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ, খুরুশকুল-চৌফলদন্ডী-ঈদগাঁও সড়কের চৌফলদন্ডী সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ অঞ্চলের অভূতপূর্ব উন্নয়ন খুরুশকুল-চৌফলদন্ডী সেতু নির্মাণ। জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে খুরুশকুল বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ।
এছাড়াও মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প, পেকুয়া-ইটমনি-বদরখালী-মহেশখালী ইউনুচখালী-কোহেলিয়া নদী পাড় হয়ে-মাতারবাড়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণ, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ প্রকল্প, ৪৪০৯ পরিবারকে আশ্রয়দানে খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্পের যাতায়াতের জন্য বাকখালী নদীর ওপর এলজিইডির নির্মাণাধীন সংযোগ সড়ক ও সেতু, খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাটি ভরাট ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প, নৌ-বাহিনীর সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ প্রকল্প, ধলঘাটা ও কালারমারছড়া মৌজায় ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও চলমান রয়েছে খুরুশকুল-ভারুয়াখালী সেতু, ভারুয়াখালী চৌফলদন্ডী সেতু নির্মাণকাজ।
মহেশখালীকে ডিজিটাল আইল্যান্ড ঘোষণা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম, রামুতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) স্থাপন প্রকল্প, টেকনাফে সাবরাংয়ে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন স্থাপন, জালিয়ার দ্বীপ এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন স্থাপন, কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং ক্রিকেট কমপ্লেক্স নির্মাণ, জাতীয় সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন অথরিটি (বেজা) কর্তৃক অর্থনৈতিক জোন স্থাপন কার্যক্রম চলছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার গণপূর্ত উদ্যান, বাহারছড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠ, কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবন, জেলার প্রায় ইউনিয়নের নির্মিত ভূমি অফিস, কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ভবন, শেখ হাসিনা জোয়ারিয়ানালা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন, আবদুল মাবুদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন, কক্সবাজার জেলার লিংক রোড-লাবণী মোড় সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, রামু-ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্থতায় উন্নীতকরণ, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ জেলা মহাসড়কের হাড়িয়াখালী থেকে শাহপরীর দ্বীপ অংশ পুনর্নির্মাণ, প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ, বাঁকখালী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ; নিষ্কাশন; সেচ ও ড্রেজিং প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), শাহপরীর দ্বীপে সি ডাইক অংশে বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা কাজ, ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ডারগুলোর পুনর্বাসন প্রকল্প, রামু কলঘর বাজার-রাজারকুল ইউপি সড়কে বাঁকখালী নদীর ওপর ৩৯৯ মিটার দীর্ঘ সেতু, কক্সবাজার জেলায় নবনির্মিত ছয়টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন, চারটি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, কক্সবাজার পৌরসভার এয়ারপোর্ট রোড আরসিসিকরণ, শহীদ সরণি, বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম সড়ক, নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল সড়কও টেকপাড়া সড়ক, সি বিচ রোড, মুক্তিযোদ্ধা সরণি, সৈকত-স্মরণ আবাসিক এলাকা সড়ক আরসিসিকরণ ও কক্সবাজার নতুন বার এনেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছে কক্সবাজারবাসী।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আরো চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। চারটি প্রকল্প হলো বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (দ্বিতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প, কুতুবদিয়া উপজেলাধীন ধুরুং জিসি মিরাখালী সড়কে ধুরুংঘাটে ১৫৩ দশমিক ২৫ মিটার জেটি এবং আকবর বলি ঘাটে ১৫৩ দশমিক ২৫ মিটার জেটি নির্মাণ, মহেশখালী উপজেলাধীন মহেশখালী গোরকঘাটা ঘাটে জেটি নির্মাণ, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারগুলোর পুনর্বাসন প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার হবে সিঙ্গাপুর এমনই অভিমত স্থানীয়দের।









































