reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৬ জুলাই, ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চাই কার্যকর উদ্যোগ

সড়ক দুর্ঘটনা কি প্রতিকারহীন হয়েই থাকবে? আপাতত এই প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। শুধু এইটুকুই বলা যায়, সড়ক যেন এক জলজ্যান্ত মৃত্যুফাঁদ। বাড়ছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে মৃত্যুহার। বাড়ি থেকে বেরুনোর মানুষটির জন্য ঘরের মানুষের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। কারণ, যে সুস্থ মানুষটি সকালে কাজের জন্য পথে বের হলো, সে নিরাপদে ঘরে ফিরবে- তার কোনো নিশ্চয়তা নেই! অবস্থা দেখে মনে হয়, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গোড়াতেই রয়ে গেছে গলদ। সড়কে যানবাহন চলাচলের যেমন আইন আছে, তেমনি পথচারীদের জন্যও আইন আছে। কিন্তু কেউই আইনের তোয়াক্কা করে না। সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, সেইসঙ্গে গাড়ি চালানোর সনদ নেই অধিকাংশ চালকের, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের সংখ্যাও কম নয়। ফলে সড়কের বিশৃঙ্খলাই যেন হয়ে উঠেছে এক অলিখিত নিয়ম।

বলা সংগত, দেশে গত জুন মাসে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত ও ১ হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জন ও আহত ৫ জন হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৯০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫১৩ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৬ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটির তথ্যমতে, এ সময়ে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত, ১৩২ জন আহত হয়েছে; যা মোট দুর্ঘটনার ৩২.৩৩ শতাংশ, নিহতের ৩৭.৩৬ শতাংশ ও আহতের ৯.৯৭ শতাংশ। জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। ২৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা অবাধ চলাচল, জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন ওঠে আসা, সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা, মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন, বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, সড়কে বিশৃঙ্খলা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণগুলো যেহেতু স্পষ্ট, তাহলে এর প্রতিকার এবং প্রতিবিধান কেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না?

বলা বাহুল্য, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ২০১৮ সালের যে আইন রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ নেই। এই আইনে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির নজির নেই। এ জন্য সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ীদের সুষ্ঠু আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন সরকারের বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ ও হতাহত কমাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়