ফ্যামিলি কার্ড
শুধু সহায়তা নয়, এটি হোক উন্নত জীবনের স্বপ্ন

বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পটি বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ইতিহাসে একটি অনন্য সংযোজন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, পরিবারে পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিতকরণ এবং একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তোলার লক্ষে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। দারিদ্র বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বলা সংগত, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই স্লোগানকে ধারণ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রতিটি পরিবারকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি পরিবারের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে এ কার্ড দেওয়া হবে এবং আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। গত সোমবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের চার মাস পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে যান তিনি। সফরের শুরুতে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একযোগে আড়াই হাজার গাছের চারারোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা যে বাজেট পেয়েছিলাম, সেটি ছিল আগের সরকারের বাজেট। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিল না। তবে কয়েক দিন আগে জাতীয় সংসদে যে নতুন বাজেট উপস্থাপন করেছি, সেখানে এ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমরা প্রথমে গ্রামের খেটে খাওয়া, অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার এ সুবিধা পাবে। এরপর ধাপে ধাপে আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। সে হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে প্রায় ৭ হাজার পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।
বলা বাহুল্য, ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি নয়, এটি একটি সহায়ক ব্যবস্থা, যা পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সহায়তা করবে। এই কর্মসূচি দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ফ্যামিলি কার্ড শুধু সহায়তা নয়, এটি একটি সহায়ক ব্যবস্থা, যা পরিবারগুলোকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। খাদ্যের নিশ্চয়তা থাকায় তারা আয়ের একটি অংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় করতে পারবে। এর ফলে ছোট ব্যবসা শুরু করা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমরা আশা করি, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ফ্যামিলি কার্ড শুধু সহায়তা নয়, এটি একটি সম্ভাবনার দরজা, যেখানে প্রতিটি পরিবার পেতে পারে নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং উন্নত জীবনের স্বপ্ন।
"





































