হরমুজ প্রাণালিতে ভারতীয় নাবিক নিহতের ঘটনায় ইরানি দূতকে তলব দিল্লির

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভাদ হোসেইনিকে তলব করেছে ভারত সরকার।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মমবাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’ নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার যখন হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পথ দিয়ে যাতায়াত করছিল, ঠিক তখনই সেগুলো ইরানি হামলার শিকার হয়। এই হামলায় মমবাসা জাহাজে থাকা এক ভারতীয় ক্রু সদস্য প্রাণ হারান এবং আরও আটজন নাবিক আহত হন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতের এবং বাকি দুজন ইউক্রেনের নাগরিক। খবর এনডিটিভির।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নাবিকদের লক্ষ্য করে এই ধরনের সহিংসতা এবং মুক্ত ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধ করে অবিলম্বে কূটনীতি ও আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি। আন্তর্জাতিক আইন মেনে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছে ভারত।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর দুটি জাহাজেই তীব্র আগুন ধরে যায় এবং এতে ট্যাংকার দুটির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আমিরাত প্রশাসন এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সাথে তারা নিজেদের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের সুরক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়ার পর মার্কিন বাহিনী ইরানে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোরে বিমান হামলা চালায়।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান বাহরাইন, জর্ডান এবং আমিরাতের ওই দুটি ট্যাংকার লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান এই যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১১ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে গত মাসেও একটি জাহাজে মার্কিন হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছিলেন।









































