আইসিসি বিলুপ্ত করার হুঁশিয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্বের অন্য দেশগুলোকেও ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন আইসিসির বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এই ঘোষণা তারই ধারাবাহিকতা।
সোমবার এক বক্তব্যে রুবিও আইসিসির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সংস্থাটি কোনো সামরিক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নয়, বরং তথাকথিত আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ শুরু করেছে।
বিরোধের পটভূমি ও কঠোর পদক্ষেপ
আইসিসির সাথে ওয়াশিংটনের এই দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু হলে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এসেও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র সংক্রান্ত বিভিন্ন তদন্তের জেরে আইসিসির একাধিক কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
তবে এবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে পদক্ষেপের ছক আঁকছে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী। ওয়াশিংটন এখন বৈশ্বিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যেন তারা আইসিসির কার্যক্রম বর্জন করে। এমনকি মার্কিন এই নীতিতে যারা সাড়া দেবে না, তাদের জন্য আমেরিকার বরাদ্দকৃত সাহায্য-সহযোগিতা কমিয়ে দেওয়ারও প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা
একই দিনে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে রুবিও সাফ জানিয়েছেন, মিত্রদের সাথে নিয়ে এবং রাষ্ট্রীয় সব ধরনের উপায় ব্যবহার করে ধাপে ধাপে আইসিসিকে অকার্যকর ও বিলুপ্ত করা হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বাতিল এবং আরও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ মার্কিন সামরিক বা নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করছে, তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন তারা মার্কিন কোনো সেনা বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইসিসির বিচারিক দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে।
বামপন্থী নেটওয়ার্কের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি
রুবিও তার নিবন্ধে আইসিসিকে একহাত নিয়ে বলেন, সংস্থাটি মূলত বামপন্থী কিছু এনজিও, বৈশ্বিকতাবাদী ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কিছু দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তিনি এল সালভাদরের অভিবাসী বহিষ্কার এবং মাদক চক্রের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আওতায় ফেলার তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি 'ডন' (ডেমোক্রেসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাউ) নামক সংস্থার পক্ষ থেকে ইরানে মার্কিন যুদ্ধাপরাধের তদন্তের দাবিকেও তিনি নাকচ করে দেন।
এদিকে ডনের নির্বাহী পরিচালক ওমর শাকির সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিওর এই বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, রুবিও তাদের অবস্থান ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাদের দাবি ছিল যুদ্ধ চলাকালীন সব ধরনের সম্ভাব্য অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত। শাকির প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি তাহলে মনে করেন ইরানে মার্কিন বাহিনীর সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের কোনো তদন্তই হওয়া উচিত নয়?
পিডিএস/এমএইউ








































