বিশ্বকাপে সেমিতে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের মহাদেবালয়ে নকআউট পর্বের পরিসংখ্যান অনেক সময় শুধু খাতা-কলমের হিসাব হয়ে থাকে না, তা হয়ে ওঠে দলের আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি। আর্জেন্টিনার জন্য বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মঞ্চটি ঠিক তেমনই এক অপরাজেয় দুর্গ। অতীতের গৌরবময় ইতিহাস আর বর্তমানের ক্ষুরধার পারফরম্যান্সকে পুঁজি করে আরও একটি ফাইনালের স্বপ্ন বুনছে আলবিসেলেস্তারা। তবে লিওনেল স্কালোনির সেই স্বপ্নের পথে এবার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড।
২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই মেগা ফাইট। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুকুট ধরে রাখার মিশন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে থ্রি-লায়ন্সদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় উত্তেজনা এখন আকাশচুম্বী।
শেষ চারে আর্জেন্টিনার ‘শতভাগ’ সাফল্যের খতিয়ান
মহা-গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বুক বেঁধে রাখার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের সেমিফাইনালের অতীত রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত যতবার শেষ চারে পা রেখেছে আকাশী-সাদারা, প্রতিবারই তারা প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে। বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে হারের কোনো রেকর্ড নেই আর্জেন্টিনার।
এক নজরে আর্জেন্টিনার অপরাজেয় পথচলা
১৯৩০ (প্রথম বিশ্বকাপ): যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম আসরেই ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
১৯৮৬ (ম্যারাডোনা ম্যাজিক): বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে দিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুকরি জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে যায় আলবিসেলেস্তারা, যা পরে তাদের দ্বিতীয় শিরোপা এনে দেয়।
১৯৯০ (গয়কোচিয়ার বীরত্ব): স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে, টাইব্রেকারে বাজপাখি হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক সার্জিও গয়কোচিয়া। তার হাত ধরেই ফাইনালে পৌঁছায় দল।
২০১৪ (রোমেরোর দেয়াল): নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের গোলশূন্য লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে দুটি অনবদ্য সেভ করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের টিকিট এনে দেন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো।
২০২২ (মেসি-আলভারেস শো): কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে স্রেফ উড়িয়ে দেয় স্কালোনির শিষ্যরা। লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেসের অবিশ্বাস্য রসায়নে ফাইনাল নিশ্চিতের পর ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
ইতিহাস বনাম বর্তমানের লড়াই
এবারও সেই ঐতিহ্য আর অপরাজেয় তকমা পিঠে নিয়েই মাঠে নামবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তবে মাঠের লড়াইয়ে অতীত ইতিহাস কোনো গোল এনে দেবে না, তা ভালো করেই জানেন স্কালোনি। বিশেষ করে হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামদের নিয়ে গড়া বর্তমান ইংল্যান্ড দলটি রয়েছে ফর্মের তুঙ্গে। দীর্ঘদিনের শিরোপা ক্ষুধা মেটাতে ইংলিশরাও এবার মরিয়া।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে কি আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের এই ‘শতভাগ সাফল্যের’ রাজকীয় রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকবে? নাকি আলবিসেলেস্তাদের এই ঐতিহাসিক মিথ ভেঙে প্রথমবার ফাইনালে যাওয়ার আনন্দে মাতবে ইংল্যান্ড? উত্তর মিলবে বুধবার রাতেই।
পিডিএস/এমএইউ








































