মানবেতর বানভাসিরা
সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে

এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি ফটিকছড়ি, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার বন্যা পরিস্থিতিও ভয়ানক। এসব অঞ্চলের বানভাসিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে শত শত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। চট্টগ্রামের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
বলা সংগত, এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে কাণ্ডারি হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাসদস্যরা দুর্গতদের দোরগোড়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া শুরু করেছেন। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সেনাসদস্যরা। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী- এই চারটি উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় চার লাখ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়া বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। বৃহত্তর চট্টগ্রামে বন্যার মধ্যে বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়ধস। গত সাত দিনে শুধু কক্সবাজারেই পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলমান বিপর্যয়ে সব মিলিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বান্দরবানের সাত উপজেলার সব নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় অনেকে পাহাড়ের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে সার্বক্ষণিক চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এখন পর্যন্ত দুর্যোগকবলিত এলাকায় এক হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান এবং তিন হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাওয়ার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে এসব নির্দেশনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সিলেটে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। উত্তরাঞ্চলে রংপুর ও লালমনিরহাটেও বন্যা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বলা বাহুল্য, বন্যার্ত মানুষের ক্ষয়ক্ষতি অপূরণীয়। ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত- সবকিছু ডুবে একাকার হয়। গবাদি পশু, সঞ্চিত সম্পদ হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সঙ্গে রয়েছে রোগ-বালাই। বন্যার পানি নেমে গেলেও বন্যার ক্ষত থেকেই যায়। কাজেই দুর্গতরা যেন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে তার জন্য বন্যা-পরবর্তী সহায়তার পরিকল্পনা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
"






































