নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২১ ঘণ্টা আগে

শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন কমেছে লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। আর লেনদেনের শেষ এক ঘণ্টায় শেয়ারবাজারে রীতিমতো ঢালাও দরপতন হয়। এতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখানোর পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৫৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১০টির এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ৩টি মিউচুয়াল ফান্ডর দাম বাড়ার বিপরীতে ৩১টির দাম কমেছে। এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৬১টির দাম কমেছে এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৬টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৩টির এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৭২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ২৪ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এমএল ডাইং।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, কুইন সাইথ টেক্সটাইল, আইটি কনসালট্যান্টস, লাভেলো আইসক্রিম, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ফারইস্ট নিটিং এবং এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৫৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২৬২ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৬টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়