নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট

বরখাস্ত শিক্ষকের অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক বিপাশা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে স্কুলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, ক্যাম্পাসে ঢুকে সহিংস কর্মকাণ্ড ও নানাভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে বর্তমান কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ নিয়ে প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদ উল্লাহ কাসেমী, দিবা শাখার ইনচার্জ জেসমিন আহমেদ, প্রভাতী শাখার ইনচার্জ সুয়ারা সুলতানা, অন্যান্য সহকারী শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

বরখাস্ত হওয়া বিপাশা ইয়াসমিন স্কুলের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক (সংগীত) ছিলেন। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর অনুমোদিত শিক্ষক-কর্মচারী প্যাটার্নের বাইরে এডহক ভিত্তিতে বিপাশা ইয়াসমিনের নিয়োগ হয়। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী মোল্লাহসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও আমলাতান্ত্রিক মহলের পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চাকরি স্থায়ী করেছিলেন বিপাশা।

চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই বিপাশা ইয়াসমিন প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন এবং তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করান। তবে এ নিয়ে পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ডিএমপির (ঢাকা উত্তর) তিন দফা তদন্তেই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিভিন্ন আন্দোলনের নেত্রী পরিচয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার মিরপুর-১০ সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।

এছাড়াও ব্যক্তিগত প্রভাব ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যবহার করে সহকারি শিক্ষক (বরখাস্ত) বিপাশা মাউশিকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেন। এর ফলে প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানার সরকারি বেতন ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এই বিষয়ে রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত আদেশ স্থগিত ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনের সূত্রে আরও জানা যায়, এই বিপাশা শিক্ষক সমিতির শীর্ষ নেতা সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে কোনো সদস্যপদ ছাড়াই বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দাবি করে প্রচার চালান, যা শিক্ষক সমাজে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া বিপাশার বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানহানিকর ভিডিও ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে ডিজিটাল অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মাউশির কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে একের পর এক অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে হয়রানি এবং প্রধান শিক্ষকের সরকারি বেতন সাময়িক বন্ধ করানোর ঘটনাও উঠে আসে, যা পরবর্তীতে হাইকোর্ট স্থগিত করেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ ও জাহাঙ্গির কবির নানকের আস্থাভাজন এবং পতিত সরকারের প্রভাবশালী আমলার স্ত্রী হিসেবে আওয়ামী আমলে বিভিন্ন অন্যায়-অনিয়মে জড়িত ছিলেন তিনি। চব্বিশ আন্দোলনের পর বর্তমানে বিশেষ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে কাজ করছেন এই নারী।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়