ক্রীড়া ডেস্ক

  ২৪ জুলাই, ২০২৬

মার খেয়েও কেন পারেদেসের শাস্তি চান না গাভি

ঘটনা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে জয় পাওয়ার পরপরই। মাঠের একপ্রান্ত তখন রীতিমতো রণক্ষেত্র। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রিকে নাহুয়েল মলিনা ঘুষি মারলে বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়। এর মধ্যে এরিক গার্সিয়াকে আক্রমণ এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করে তোলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা ধাক্কা মারেন দানি ওলমোকে। ম্যাচ শেষে ফিফা প্রাথমিকভাবে পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে তালিকাভুক্ত করলেও, পরে সেটিকে ভুল আখ্যা দিয়ে রেকর্ড থেকে মুছে ফেলে।

আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের এমন ‘উগ্র’ আচরণ শিশুদের সামনে খুব ভালো উদাহরণ তৈরি করে না- তা মেনে নিচ্ছেন গাভি নিজেই। তবু ক্ষোভ পুষে না রেখে বাস্তববাদী বার্সেলোনার স্প্যানিশ তারকা বলছেন, ফুটবল শুরু থেকেই একটি আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী খেলা। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় লাল কার্ড দেখানোই যথেষ্ট হতে পারত, টুর্নামেন্ট শেষে স্থগিতাদেশ বা দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রয়োজন নেই।

প্রতিপক্ষের অবস্থান ও কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বার্সেলোনা মিডফিল্ডার গাভি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না তাদের আর কোনো নিষেধাজ্ঞা পাওয়া উচিত। আমি বুঝি, যা ঘটেছে তা শিশুদের জন্য মোটেও ভালো কোনো উদাহরণ নয়; তবে ফুটবলে এমন চরম উত্তেজনা এবং কিছুটা মারমুখী আচরণ সবসময়ই থেকে এসেছে।’

গাভির মতে, আর্জেন্টাইনদের মেজাজ হারানোর এ ঘটনায় সঠিক সিদ্ধান্তটা মাঠের ভেতরেই নেওয়া উচিত ছিল- যার একমাত্র সমাধান হতে পারত পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যের ইতি টেনে গাভি আরো যোগ করেন, ‘আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত বিষয় হতো যদি ম্যাচের মধ্যেই ওকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতো। দিনশেষে আমি মনে করি, এই ধরনের পরিস্থিতি খেলারই একটি অংশ এবং ফুটবল আদিকাল থেকেই এমন ছিল।’

মাঠের ঘটনার শুরুটা হয়েছিল অবশ্য ভিন্ন জায়গায়। রেফারির শেষ বাঁশির পর নাহুয়েল মলিনার কাছে গিয়ে জয় উদযাপন করতে যান স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি। তাতেই চটে গিয়ে রদ্রির পেটে ঘুষি বসিয়ে দেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার মলিনা। ঘটনা দেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এসেছিলেন এরিক গার্সিয়া ও স্পেনের অন্য ফুটবলাররা।

গার্সিয়া যখন তাদের হাতাহাতি থামানোর চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই পারেদেস ধরে নেন যে গার্সিয়া বুঝি তার সতীর্থের ওপর চড়াও হতে আসছেন। ক্ষুব্ধ পারেদেস তেড়ে এসে প্রথমে গার্সিয়াকে ধাক্কা মারেন এবং পরে গাভিকেও মাটিতে ফেলে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ধাক্কাধাক্কি সামলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ম্যাচ চলাকালীন একমাত্র এনজো ফার্নান্দেজকেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। অবশ্য ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পারেদেসকেও লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে জোর গুঞ্জন উঠেছিল। তবে ফিফা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ম্যাচ শেষে কোনো খেলোয়াড়কে কার্ড বা বহিষ্কার করা হয়নি এবং আপাতত রেফারি ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়