বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বাবুগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের মানবিক উদ্যোগ

চোখের আলো হারানোর শঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরে জীবন কাটছিল অনেকের। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে ঝাপসা দৃষ্টি নিয়েই দিন পার করছিলেন কেউ, আবার কেউ অপেক্ষা করছিলেন এমন একটি সুযোগের, যা হয়তো ফিরিয়ে দেবে জীবনের আলো।
সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের হাজারো অসহায় মানুষের।
উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেয়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে তাদের মুখে।
শনিবার (২৫ জুলাই) মাধবপাশা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতাল এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক মো. মঈনুল ইসলাম অপুর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্যাম্পে প্রায় এক হাজার মানুষ বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চশমা ও চোখের ড্রপ পান।
একই সঙ্গে শতাধিক ছানি রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়। তাদের অপারেশন, কৃত্রিম লেন্স, হাসপাতাল ব্যয়, ওষুধ ও পরবর্তী চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন সমাজসেবক মো. মঈনুল ইসলাম অপু।
সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগীদের পরীক্ষা করে ছানি, গ্লুকোমা, রিফ্র্যাকটিভ ত্রুটি ও অন্যান্য চোখের সমস্যার চিকিৎসা ও পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না। এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ এবং ব্যক্তি উদ্যোগে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমাজসেবক মো. মঈনুল ইসলাম অপু বলেন, মানুষের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। শুধু অর্থের অভাবে যেন কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে না ফেলেন, সেই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ। যারা ছানিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের অপারেশনের সম্পূর্ণ ব্যয় আমরা বহন করব।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শিউলি আক্তারের চোখে ছিল স্বস্তির ছাপ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝাপসা দেখলেও ভালো হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে তিনি খুবই উপকৃত হয়েছেন।
এক প্রবীণ রোগী জানান, তার চোখে ছানি ধরা পড়েছে এবং বিনামূল্যে অপারেশনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। নিজের পক্ষে এত বড় ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না বলে তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানায় , গ্রামীণ এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য নয়। তাই এ ধরনের উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাই নয়, দরিদ্র মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালায়। ভবিষ্যতেও বাবুগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এমন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।
এক দিনের এই আয়োজন শেষ হলেও অনেক মানুষের জীবনে শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়-যেখানে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এসেছে বেঁচে থাকার নতুন আশা।









































