বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

বেনাপোল-ঢাকা ও বেনাপোল-খুলনা রুটে চলন্ত ট্রেনের মধ্যে হিজড়াদের চাঁদাবাজি ও হেনস্তার অভিযোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের বেনাপোল-যশোর ও বেনাপোল-খুলনা-মোংলা রুটে চলাচলকারী ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে হিজরাদের বিরুদ্ধে। রেলওয়ে পুলিশের চোখের সামনে প্রতিনিয়ত এ ঘটনা ঘটলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।

এদিকে সাধারন যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেছেন, বেনাপোল-ঢাকা ও বেনাপোল খুলনা রুটের ট্রেনে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢাকাগামী ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ এবং ‘রুপসী বাংলা’ ট্রেনে যশোর পর্যন্ত একই ভাবে বেনাপোল-খুলনা-মোংলা রুটে চলাচলকারী ‘বেতনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে যশোর খুলনা পর্যন্ত মহিলা চোরাচালানি, হকার, ভিক্ষুক, হিজরা ও নেশাখোররা বিনা টিকিটে ওঠে বসে থাকে। রেলের যাত্রীদের নিরাপত্তায় থাকা রেলওয়ে পুলিশের সদস্যদের প্রতিটি কামরায় থাকার নিয়ম থাকলেও তারা সবাই একটি বগিতে সিট নিয়ে ঘুমিয়ে আসে ও ঘুমিয়ে চলে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তা দুরে থাক নিজেদেরই নিরাপত্তা থাকে না। তাদের সামনে যাত্রীদের ব্যাগ, টাকা খোয়া গেলে, যাত্রীদের মধ্যে বাগবিতন্ডা হলেও তারা এসব না দেখার ভান করে সিটেই বসে থাকে। অপরদিকে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএসবি) সদস্যরা রেলস্টেশন ও রেলের সম্পদ দেখাশুনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাদের চোখের সামনে দিয়ে চোরাচালানী, হিজরা, ভিক্ষুক, নেশাখোররা ট্রেনে উঠলেও তাদের বাধা দিতে দেখা যায় না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে চোরাচালানীদের যোগসাজসে চোরাচালানীরা ট্রেনে ভারতীয় পণ্য পাচার করছে। এরা ট্রেনের কোন টিকিট কাটে না।

অভিযোগে জানা গেছে, শনিবার মহাসিন হোসেন নামের এক যুবক দুপুরে পরিবারসহ বেনাপোল-ঢাকাগামী ‘রূপসী বাংলা’ ট্রেনে যশোর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বগিতে দুজন হিজড়া প্রবেশ করে যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আপত্তিকর ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি শুরু করে। প্রতিবাদ করায় তারা আরও উগ্র রূপ ধারণ করে এবং পরিবারের সামনেই তাকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে সব যাত্রীর সামনেই তাকে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে ট্রেনের ভেতর চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী যাত্রী মহাসিন হোসেন বলেন, ‘রূপসী বাংলার’ মতো একটি আভিজাত্যপূর্ণ ও প্রথম শ্রেণীর আন্তঃনগর ট্রেনে দেশের বিশিষ্ট ও সম্মানিত নাগরিক এবং অভিজাত যাত্রীরা যাতায়াত করেন। এমন একটি মানসম্মত ট্রেনে অননুমোদিত বহিরাগত ও হিজড়ারা কি ভাবে উঠে এবংপুলিশের সামনে যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করে তা বোধগম্য নয়। পাবলিক পরিবহনে মা-বোনদের নিয়ে যাতায়াত করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন যাত্রী হিসেবে প্রতিবাদ করায় পরিবারের সামনে আমাকে এমন নোংরা হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। আমি এর স্থায়ী প্রতিকার চাই, যেন আর কোনো সন্তানকে পরিবারের সামনে এভাবে লজ্জিত হতে না হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক মহাসিন হোসেন বেনাপোল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এবং স্টেশন মাস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হুসাইন জানান, ট্রেনে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জিআরপি পুলিশ চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টিকিট বা অনুমতি ছাড়া ট্রেনে হিজড়া, হকার বা বহিরাগতদের প্রবেশ বেআইনি। ঘটনার পর স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ট্রেন ছাড়ার সময় কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি যেন উঠতে না পারে, সেজন্য গার্ড ও নিরাপত্তা কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জিআরপি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হচ্ছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়