এলএনজি সরবরাহ নেমে এলো ৪৭ শতাংশে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ আছে চার দিন। এখন শুধু দেশীয় সামিট এলএনজি টার্মিনাল দিয়েই সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। চার দিন ধরে এই টার্মিনাল দিয়ে ৫৭ কোটি ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার (২৫ জুলাই) সেটি কমিয়ে ৫০ কোটি ঘনফুটে নামানো হয়েছে। এই অবস্থায় এলএনজি সরবরাহ কমে ৪৭ শতাংশে নেমেছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এলএনজি নির্ভর শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। ভারী শিল্পকারখানা উৎপাদন সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর সিএনজি পাম্প, আবাসিক, বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে, তা নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছে না।
গ্যাস সরবরাহ কেন কমানো হলো এবং কবে নাগাদ এলএনজি টার্মিনাল সচল হবে- এসব বিষয়ে পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি। পরে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি টিম নিয়ে আগামীকাল রবিবার মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হবে। সরেজমিনে দেখার পর জানা যাবে কবে নাগাদ সেটি মেরামত শেষ করা যাবে।
এলএনজি সরবরাহ কমানোর বিষয়ে তার ভাষ্য, সামিটের টার্মিনালে কোনো কারিগরি ত্রুটি নেই। নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ আসার সঙ্গে সমন্বয় করতেই সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে। নতুন জাহাজ লাগলে সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।
এলএনজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এক শীর্ষ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, পিউর কারিগরি ত্রুটির কারণেই এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনাল বন্ধ আছে। নতুন কারিগরি টিম দ্রুত ত্রুটি সারিয়ে ফেলতে পারবে। তাও কমপক্ষে দুদিন লাগতে পারে।
কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান দুটি টার্মিনালের মধ্যে একটি চালায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি। আরেকটি চালায় দেশীয় সামিট গ্রুপ। এই দুটি প্রতিষ্ঠান এলএনজি আমদানি করে না। সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা চুক্তিভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে দুভাবে এলএনজি আমদানি করে। জাহাজে করে কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছার পর দুটি ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে এই গ্যাস রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ দেয়।
এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট। ২১ জুলাই জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ দিতে গিয়ে বয়লারে আগুন ধরে যায়। ১০ মিনিটের মধ্যেই এলএনজি বহনকারী জাহাজকে ভাসমান টার্মিনাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল। এরপর থেকে সেই টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ আছে।
পাশে থাকা সামিট এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ দেওয়ার সক্ষমতা আছে। কিন্তু এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সেই টার্মিনাল দিয়ে সরবরাহ বাড়িয়ে ৫৭ কোটি ঘনফুট দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার সেটি কমিয়ে ৫০ কোটিতে নামল। এই অবস্থায় এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতার বিপরীতে ৪৭ শতাংশে নেমেছে।
মহেশখালীর সাগরে থাকা এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল জাহাজটির নাম এক্সিলেন্স। এটি ২০০৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি। সেই হিসাবে ভাসমান জাহাজটি ২১ বছর পুরনো। ২০১৮ সালে দেশের প্রথম এলএনজি টার্মিনাল হিসেবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। যাত্রা শুরুর পর পাঁচবার বন্ধ হয়েছিল। পুরনো হওয়ার কারণে এটি বারবার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।









































