পশ্চিম তীরে গোলাগুলিতে চার ফিলিস্তিনি, দুই ইসরায়েলি নিহত

অবৈধভাবে দখলকরা পশ্চিম তীরের নাবালুস এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। নিহত চার ফিলিস্তিনি একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ফাতাহ নেতা এসাম সাইফি। এ ঘটনায় একাধিক ব্যাক্তি আহতও হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে অঞ্চলটি দক্ষিণ-পশ্চিমের তাল গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা (সেটেলার) প্রথমে গুলি চালালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। এরপরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও ঘটনা স্থলে গিয়ে গুলি চালাতে শুরু করে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি নাগরিকরা ওই এলাকায় হাইকিং করছিলেন। কিছু পথচারীর ওপর ‘হামলার’ খবরে তারা সেখানে গিয়েছিল।
আইডিএফের ভাষ্য, ‘সন্ত্রাসীরা’ একজন নিরাপত্তা রক্ষীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালালে এক ইসরায়েলি নিহত হয়। পরে সেনাদের গুলিতে ওই ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়।
আইডিএফ আরও জানায়, একজন ২৭ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনাও এই অভিযানে নিহত হয়েছেন। ওই এলাকায় ‘ব্যাপক সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের’ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছে তারা।
ঘটনাস্থলের ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওর একটিতে দেখা যায়, সশস্ত্র বেসামরিক ইসরায়েলি ও সেনাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষ হচ্ছে এবং ইসরায়েলি নাগরিকরা এমনকি শিশুরাও তা দেখছেন।
আহমেদ জেইদান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন, তাল গ্রামের ঘটনাটি শুরু হয় ভোরে, প্রায় ৩০ জন সেটেলার ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে আক্রমণ শুরু করে। ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতিতেই সেখানে হাতাহাতি শুরু হয়।
অন্যদিকে আইডিএফ দাবি করেছে, ফিলিস্তিনিরাই হামলা শুরু করেছিল। তাল গ্রামে ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার খবরে তারা সেখানে যায়।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাল গ্রামের এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সরকার অননুমোদিত বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা ও উস্কানি দিয়ে এ ধরনের সহিংসতা বাড়াচ্ছেন ।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি বৈঠক ডেকেছেন এবং ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। নিহত ফিলিস্তিনিদের বসতি ধ্বংস করা হবে এবং অননুমোদিত বসতি স্থাপনকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, প্রত্যেক নিহত ইহুদির জন্য ফিলিস্তিনিদের ঘর ও জমি খোয়াতে হবে।
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সেটেলারদের হামলা বেড়েছে। বিগত ২০২৩ সালে অক্টোবরে হামলা শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে পশ্চিম তীরে এক হাজার ১১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ৪১ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।









































