ক্রীড়া প্রতিবেদক
জেলা লিগে বিসিবির নজরদারি

জেলার ক্রিকেট বলতে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট আর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ। বিসিবির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত টুর্নামেন্টগুলোয় খেলতে খেলোয়াড়রা আপত্তি করেন না। কারণ এসব খেলায় অংশগ্রহণ করলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চেষ্টা করছে রুটিন টুর্নামেন্টের বাইরে জেলাগুলোয় ক্রিকেটের চর্চা বাড়াতে। জেলা লিগ নিয়মিত করতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। দেশের ৬৪টি জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও কাউন্সিলদের চিঠি দেওয়া হয়েছে লিগের পরিকল্পনা চেয়ে। বিসিবি টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, তিনটি স্লটে করা হবে ৬৪টি জেলার লিগ। বেশকিছু জেলা থেকে লিগের পরিকল্পনা হাতে পেয়েছে বিসিবি।
সারা দেশে লিগ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পর্যালোচনা করেছে বিসিবি। সে আলোকে জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা লিগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘জেলা লিগটা খুব জরুরি। লিগ না হলে জেলার পক্ষে বিসিবির বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে খেলা ক্রিকেটার ও স্থানীয় একাডেমির ক্রিকেটারদের ধরে রাখা সম্ভব হবে না। খেলোয়াড়দের ন্যূনতম আয়ের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। আমরা জেলা পর্যায়ে ক্রিকেট নিয়ে কাজ করি। সে অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি লিগ হয় না দেশের অধিকাংশ জেলায়। বিসিবি চেষ্টা করছে ৬৪ জেলায় লিগ নিয়মিত করার।’
বিসিবি টুর্নামেন্ট কমিটির ব্যবস্থাপক আবু ইমাম মোহাম্মদ কাউসার জানান, ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব লিগ হয়েছে ১২টি জেলায়। টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট করেছে আটটি জেলা। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্রিকেট লিগ বা টুর্নামেন্ট করেনি বাকি ৪৪টি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। লিগ না করার কারণ চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে জেলাগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছে বিসিবি। ক্রিকেট বোর্ডের টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জানান, দেশের সব জেলায় লিগ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তিন ধাপে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ২০টি জেলায় হবে লিগের খেলা। যাদের মাঠ, উইকেট ও খেলা আয়োজনের আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা আছে, প্রথম ধাপে থাকবে সে জেলাগুলো।
সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমীর বলেন, ‘জেলাগুলোর কাছে সুযোগ-সুবিধার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। কিছু জেলা থেকে পরিকল্পনা পাওয়া গেছে। ৬৪ জেলা থেকে পরিকল্পনা হাতে পাওয়ার পর মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ণয় করা হবে স্লট। যে জেলাগুলোয় উইকেট ও মাঠ সংস্কারের প্রয়োজন হবে, সেই ২০টি জেলায় লিগ হবে দ্বিতীয় ধাপে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে লিগ সম্পন্ন করতে হবে দ্বিতীয় ধাপে থাকা ২০টি জেলাকে। বাকি ২৪টি জেলায় লিগ হবে শেষ ধাপে। যাদের মাঠ নেই, সমস্যা একটু বেশি বা কাজ করতে একটু সময় লাগবে।’ জেলাগুলোকে লিগ আয়োজন করতে বছরে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেয় বিসিবি। তিন ধাপে দেওয়া হয় টাকা। ফিক্সড হওয়ার পর দুই লাখ টাকা। বিসিবি প্রতিনিধি লিগের খেলা পরিদর্শন করার পর দেওয়া হবে ১ লাখ টাকা। খেলা শেষে বিল ভাউচার হাতে জমা হলে বাকি ২ লাখ টাকা দেওয়ার নিয়ম। টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার কাউসার বলেন, ‘জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে আমরা কিছু গাইডলাইন দিয়েছি। সে অনুযায়ী কাজ করছে তারা। আশা করি, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’ তিনি জানান, জেলা লিগে ম্যাচ বল, ম্যাচ অফিসিয়াল দেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে বিসিবির।
"








































