ক্রীড়া প্রতিবেদক

  ১১ জুন, ২০২১

জিততেই ভুলে গেছে মোহামেডান

শুভাগত হোমের ফিফটিতে কোনো মতে শতরানের কোটা পার করেছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এরপর লড়াই করতে প্রয়োজন ছিল বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং। কিন্তু সে কাজটি ঠিকঠাকভাবে করতে পারেননি সাকিব আল হাসানরা। এলোমেলো বোলিংয়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কাজটা আরো সহজ করে দেন। ফলে মোহামেডানকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দলটি।

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মোহামেডানকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে রূপগঞ্জ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১৩ রান করে মোহামেডান। জবাবে ১১ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় রূপগঞ্জ।

------
শুধু বাজে ব্যাটিং আর এলোমেলো বোলিংই নয়, ফিল্ডিংও মানসম্পন্ন ছিল না মোহামেডানের। সহজ ক্যাচ ছাড়ার পাশাপাশি বেশকিছু বাড়তি রানও দিয়েছে তারা। খেলোয়াড়দের শারীরিক ভাষাতেও ছিল জয়ের তাগিদ। তাই সাদামাটা লক্ষ্যে এদিন দেখেশুনেই ব্যাট করতে থাকে রূপগঞ্জ। দুই ওপেনার মেহেদী হাসান মারুফ ও পিনাক ঘোষের ওপেনিং জুটিতেই আসে ৮৯ রান। এরপর মারুফ আউট হলে বাকি কাজ সাব্বির রহমানকে নিয়ে শেষ করেন পিনাক ঘোষ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন পিনাক।

ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই রূপগঞ্জের বোলারদের তোপে পড়ে দলটি। ২৭ রানেই শেষ টপ অর্ডারের ৬ উইকেট। তখন দেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। অধিনায়ক সাকিব, নাদিফ চৌধুরী ও মাহমুদুল হাসানরা খুলতে পারেননি রানের খাতাও। ব্যর্থ পারভেজ হোসেন ইমন, শামসুর রহমান ও ইরফান শুক্কুরও।

তবে সপ্তম উইকেটে আবু হায়দার রনিকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজে নামেন শুভাগত হোম। চলতি আসরে ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না তার। তবে এদিন দলের খুব প্রয়োজনীয় সময় জ্বলে উঠেন এ অলরাউন্ডার। রনিকে নিয়ে গড়েন মূল্যবান ৭০ রানের জুটি। পাশাপাশি রানের গতি বাড়ানোর কাজটাও করেন। তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় দলটি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রানের ইনিংস খেলেন শুভাগত। মুক্তার আলীর বলে আউট হওয়ার আগে ৩২ বলের ইনিংসে ১টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন তিনি। ২৫ বলে ১৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন রনি। এ ছাড়া আর কেবল ইমনই (১০) দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পেরেছেন। রূপগঞ্জের পক্ষে দুটি করে উইকেট পেয়েছেন সোহাগ গাজী, মোহাম্মদ শহীদ, নাঈম ইসলাম ও কাজী অনিক।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে এবার টপ অর্ডারে ব্যাটিং করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আর সে সুযোগটা দারুণভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন এ অলরাউন্ডার। তার আরো একটি দারুণ ইনিংসে জয় পেয়েছে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি। আবাহনী লিমিটেডকে হারানোর পর এবার আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে দিয়েছে দলটি।

গতকাল সাভারের বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে বৃষ্টি আইনে ৫ রানে হারিয়েছে খেলাঘর। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৪ রান করে ব্রাদার্স। জবাবে ১৬.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৯ রান তোলার পর বৃষ্টি নামে। পরে ডি-এল পদ্ধতিতে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা ব্রাদার্সের শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনার মিজানুর রহমান ও জুনায়েদ সিদ্দিকির ওপেনিং জুটিতে আসে ৪৯ রান। তবে এ জুটি ভাঙতেই হঠাৎই উইকেট হারানোর মিছিলে যোগ দেয় দলটি। স্কোরবোর্ডে ৮ রান যোগ করতে হারায় ৩টি উইকেট। এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে রাহাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজে নামেন মিজানুর। গড়েন ৫১ রানের জুটি। তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় দলটি।

কাজের কাজটা আগেই করে দিলেন আবাহনী লিমিটেডের ব্যাটসম্যানরা। মোহাম্মদ নাঈম ও আফিফ হোসেনের ব্যাটে বড় স্কোরই গড়ে দলটি। এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাকি কাজটা সহজ হয়ে যায় আবাহনীর। শেষদিকে বৃষ্টি বাগড়া দিলেও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগ টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম জয় তুলে নিল তারা।

সাভারের বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে বৃষ্টি আইনে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ২৫ রানে হারিয়েছে আবাহনী। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান করে আবাহনী। জবাবে ১৭ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৩ রান তোলার পর বৃষ্টি নামে। পরে বৃষ্টি আইনে আবাহনীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো করতে পারেনি শাইনপুকুর। শুরুতেই খালি হাতে ফেরেন ওপেনার রহমত আলী। এরপর অবশ্য ছোট ছোট জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে দলটি। কিন্তু রানের গতি সে অর্থে বাড়াতে পারেনি দলটি। ফলে শেষ ১৮ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬১ রানের। কিন্তু এরপর বৃষ্টি নামলে ডি-এল পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয় ম্যাচের ফলাফল।

মনে হচ্ছিল শেষ ওভারটি কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। ম্যাচ জিততে প্রাইম দোলেশ্বরের শেষ ৬ বলে দরকার ছিল ৩১ রানের। হাতে আছে কেবল ১ উইকেট। কিন্তু ওই অবস্থা থেকেও হলো নাটকীয়তা। রুবেল হোসেনের শেষ ওভারে কামরুল ইসলাম রাব্বি চার ছক্কায় ম্যাচ যে প্রায় জিতিয়েই ফেলেছিলেন!

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে শেষ পর্যন্ত ৩ রানে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক। প্রাইম ব্যাংকের করা ১৫১ রানের জবাবে দোলেশ্বর যেতে পেরেছে ১৪৮ রান পর্যন্ত।

শেষ ওভারের অমন তা-বে মাত্র ১২ বলে ৩৮ রান করেন কামরুল। প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ১৯ রান দেওয়া রুবেল শেষ ওভারেই দেন ২৭ রান। রুবেলের ওই ওভারের প্রথম বল থেকে আসে ছক্কা। পরের বলে ২ রান। পরের তিন বলেও ছক্কা মারেন কামরুল। শেষ বলে বাউন্ডারির চাহিদা আর মেটানো যায়নি। রোমাঞ্চকর জয়ে দোলেশ্বরকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও উঠেছে প্রাইম ব্যাংক। এর আগে প্রাইম ব্যাংকের শুরুটা হয়েছিল বাজে। রনি তালুকদার কোনো রান করতে পারেননি। ব্যর্থ হন তামিম ইকবাল (১২ বলে ৮)। এনামুল হক বিজয়কে পাওয়া গিয়েছিল ছন্দে। কিন্তু শুরুটা এনেও (১৮ বলে ২৯) টানতে পারেননি ইনিংস।

শুরুতে নেমে আগ্রাসী ব্যাট চালিয়ে থিতু হওয়া মোহাম্মদ মিঠুন পরে দলের অবস্থা বুঝে নেন ধীর অ্যাপ্রোচ। ইনিংসের একদম শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ৫০ বলে ৫৫ রান করেছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তবে দলের রান ১৫০ ছাড়িয়ে গেছে মূলত অলকের ছোট্ট ঝড়ে। সাতে নেমে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান ১৪ বলেই করেছেন ২৬ রান।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close