reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৬ অক্টোবর, ২০২৪

বাজার স্থিতিশীলতায় চাই কার্যকর উদ্যোগ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। বাজারে প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন অগ্নিমূল্যে ভোক্তারা অসহায়, বিশেষভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ, যা আয় করছে, তার পুরোটাই ব্যয় হচ্ছে জীবনধারণে। ফলে অন্যান্য খাতে ব্যয় করার মতো অর্থ তাদের হাতে থাকছে না। আগস্টের মাঝামাঝি দেশের পূর্বাঞ্চলে বন্যায় কৃষিপণ্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে গত মাসে সারা দেশে বৃষ্টিপাতে সবজিখেত আরেক দফা ক্ষতির শিকার হয়। এ অবস্থায় ঘাটতি মোকাবিলায় পণ্য আমদানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যার খেসারত দিচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ।

সার্বিক এ অবস্থায় ময়দা, সয়াবিন তেল, পাম তেল ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে দেশে উৎপাদিত সবজিও। কোথাও কোথাও ধনেপাতা ৬০০ ও কাঁচা মরিচের কেজি ৫০০ টাকায় উঠেছে। এদিকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞায় থাকায় সামুদ্রিকসহ সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের আলু, ডিমের মূল্যবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কারণ একটাই, তা হচ্ছে বাজারের ওপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই বাজার মনিটরিং, তদারকি এবং সে অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলছে। একবার যে পণ্যের দাম বাড়ে, তা আর কমে না। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এ ব্যাপারে কাজ করলেও তাতে দৃশ্যমান কোনো সাফল্য আসছে না। প্রতিটি পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা একেকটি অজুহাত দাঁড় করান। অথচ কিছু পণ্য আছে সরবরাহে ঘাটতি না থাকার পরও দাম বেড়ে যায়। তা ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দিলে এমন কোনো পণ্য নেই, যা বাজারে পাওয়া যায় না; অর্থাৎ আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে একদল দুর্বৃত্ত নামক সিন্ডিকেট চক্র। আর এর মাশুল গুনছে সাধারণ মানুষ। পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে ন্যায়সংগত মূল্যে কোনো পণ্যই আর পাওয়া যায় না। প্রতিটি পণ্যেই যেন অধিক মূল্যের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির ও কষ্টের সম্মুখীন হয় স্বল্প আয়ের মানুষ। সুতরাং এদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বাজারের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে ইচ্ছামতো দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে সে জন্য দেশের জনগণকেও সচেষ্ট থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মুনাফাখোর সমাজের উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। তাই অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ও নিরাপত্তা।

বলাবাহুল্য, আমরা বরাবরই দেখি কোনো অজুহাত পেলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কখনো রোজা, কখনো ঈদ বা কখনো জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে-পরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি যেন এক নিয়মিত ঘটনা। এই অশুভ প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। তবে এ প্রবণতা এখন বেড়ে গেছে মাত্রাতিরিক্ত হারে। বলতে গেলে, নিত্যপণ্যের বাজারে অর্থনীতির নিয়মের বদলে এখন সিন্ডিকেটের বিধিবিধানই যেন কার্যকর রয়েছে। আমরা আশা করি, ভোক্তার স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত সরকার এসব সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি অস্থির বাজারকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে- এটাই প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়