reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১১ অক্টোবর, ২০২১

অর্থনৈতিক অবরোধই পারে সমস্যার সমাধান দিতে

বাংলাদেশ বহুদিন ধরে রোহিঙ্গা সমস্যায় ভুগছে। মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া ১১ লাখ শরণার্র্থীকে আশ্রয় দিয়েছে দেশটি। এই মানবিক আচরণ বিশ্বের সর্বত্র প্রশংসিত হলেও সমস্যা সমাধানে তেমন জোরালো কোনো সমর্থন এখনো পর্যন্ত নেই বললেই চলে। সীমিতসংখ্যক দেশ অল্প-বিস্তর মাথা ঘামিয়েছে। তবে কেউই গভীরভাবে বিষয়টি নিয়ে ভাবেনি। বিশেষ করে পরাশক্তিধর দেশগুলো। সবাই নিজের স্বার্থকে সুরক্ষিত রেখে সামনের দিকে এগিয়েছে। বন্ধুসুলভ আচরণে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি কাউকে। সমস্যা কাঁধে নিয়েই বাংলাদেশকে চলতে হয়েছে।

এমন একটি সময়ে জাতিসংঘের মানবিক বোধ বোধহয় জাগ্রত হয়েছে। আগের অবস্থান থেকে তারা সরে এসেছে। ভাসানচরে শরণার্থীদের জন্য নতুন করে কাজ শুরু করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তারা। গত শনিবার একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে সই করেছে বিশ্ব সংস্থাটি।

একসময় রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরের ব্যাপারে বিশ্ব সংস্থাটি প্রবল বিরোধিতা করে। কিন্তু এখন বলছে, ‘আমরা কীভাবে ভাসানচরে কাজ করব তার একটি রূপরেখা থাকছে এই চুক্তিতে।’ অর্থাৎ আগের সিদ্ধান্ত বদলেছে। জাতিসংঘের নতুন এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই একটি ইতিবাচক অর্জন। এ অর্জন এমনিতেই আসেনি। মেধা ও শ্রমের প্রয়োজন পড়েছে। যারা শ্রম ও মেধার জোগান দিয়েছেন, তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, কক্সবাজারের মতো ভাসানচরেও তাদের মূল লক্ষ্য হবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনকও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত করে তোলা। তথ্য মতে, জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কক্সবাজারের মতো ভাসানচরেও মানবিক সহায়তা পরিচালনা করবে। যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গা নাগরিকদের খাদ্য ও পুষ্টি, সুপেয় পানি, পয়োনিষ্কাশন, চিকিৎসা, মিয়ানমার কারিকুলাম ও জীবিকায়নের ব্যবস্থা করা হবে ভাসানচরে, যে কাজটি এত দিন এককভাবে বাংলাদেশ সরকার করে এসেছে।

জাতিসংঘ এ পর্যন্ত নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে এসেছে এ কথা সত্য, তবে তা শুধু কম-বেশি মানবিক দিককেই পূরণ করেছে। আসল সমস্যা সমাধানে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তবে এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে এককভাবে দোষারোপ করারও কোনো সুযোগ নেই। কেননা পরাশক্তিধর দেশগুলোর ঐকমত্য সিদ্ধান্ত ছাড়া বিশ্ব সংস্থার সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ারও তেমন একটা সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশকেই উদ্যোগ নিতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে পরাশক্তিধর দেশগুলোকে পক্ষে আনার জন্য তৎপরতা বাড়াতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে।

এ ছাড়া বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রায়ই শক্তিধর দেশকে অর্থনৈতিক অবরোধ দিতে দেখা যায়। সেসব দেশকেই অবরোধের আওতায় আনতে দেখা যায়, যারা দেশের ভেতরে চরমভাবে মানবতার লঙ্ঘন করে, গণতন্ত্রকে পদদলিত করে, অপর কোনো দেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। মিয়ানমার এই তিন অভিযোগেই অভিযুক্ত। কিন্তু দেশটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অবরোধের কোনো ছায়ার দেখাও মেলেনি। মানবতার পক্ষে শক্তভাবে দাঁড়ানোর কথা তাদের মাথায় আসেনি। মানবতা যেন রোহিঙ্গা শিবিরে নীরবে-নিভৃতে কাঁদছে। এ কান্নার ধ্বনি শক্তিধর দেশগুলোর কর্ণকুহরে কোনো আলোড়ন তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা মনে করি, মানবতাকে রক্ষার জন্য শক্তিধর দেশগুলোর এগিয়ে আসাটা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আর অর্থনৈতিক অবরোধই হতে পারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে অন্যতম একটি ইতিবাচক পথ।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close