মো. আরাফাত রহমান

  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

দৃষ্টিপাত

বাংলাদেশে পোলট্রিশিল্পে সমস্যা ও উন্নয়ন

বাংলাদেশে পোলট্রি বা গৃহপালিত পাখি সবচেয়ে বেশি মাংস ও ডিম উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে পোলট্রি চাষ হলো বিভিন্ন ধরনের পাখির মাংস, ডিম, পালক উৎপাদন অথবা বিক্রয়ের জন্য গৃহীত প্রক্রিয়া। আবহাওয়া পোলট্রি চাষের জন্য অনেক বেশি অনুকূল। বহু বছর আগ থেকে এখানকার মানুষ বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় জাতের পাখি পালন করে আসছে। কিন্তু এদের উৎপাদনশীলতা যথেষ্ট কম হওয়ায় খামার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ব্রিটিশ শাসনামলে ঢাকার তেজগাঁওয়ে, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেটে পোলট্রি খামার তৈরি করা হয়েছিল। পরে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, সীতাকুণ্ডু, বরিশাল, যশোর, খুলনা, রাজশাহীতে হাঁস-মুরগির খামার তৈরি করে। বাংলাদেশে ২০০৫ সালে মোট পোলট্রি পাখির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ কোটি ৮৩ লাখ এবং বার্ষিক প্রায় ৫৩৬ কোটি ৯০ লাখ ডিম উৎপন্ন হয়েছিল।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশে সরকারি হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে ৪৫টি, যার মধ্যে ৮টিতে বাচ্চা উৎপাদন করা হয় এবং ৬৪,৭৫৯টি বেসরকারি নিবন্ধিতসহ ১,৬০,৫০৯টি খামার রয়েছে। এ খামারগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ২.৩ কোটি ডিম এবং ১,৫৩০ টন মাংস উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট মাংস উৎপাদনের ৩৭ শতাংশ। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে পোলট্রিশিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এদেশে ১,৫০,০০০ লাখ পোলট্রি ফার্ম আছে। ২০১৭ সালের ২ থেকে ৪ মার্চে পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখা ঢাকার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে দশম আন্তর্জাতিক পোলট্রি শো অ্যান্ড সেমিনারের আয়োজন করেছিল। বাংলাদেশে পোলট্রির মধ্যে মাংসের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ব্রয়লার মুরগি এবং ডিমের জন্য লেয়ার মুরগি।

পোলট্রি মাংস, ডিম, পালক, সার, পশুখাদ্য ও ওষুধ তৈরির উপকরণের মতো অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান দ্রব্য উৎপাদনকারী গৃহপালিত পাখি। মুরগি, হাঁস, রাজহাঁস, গিনি মুরগি, কোয়েল, কবুতর, পিজেন্ট এবং টার্কি সাধারণত পোলট্রি পাখি হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব পাখি আবদ্ধ পরিবেশে প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। গৃহপালিত মুরগির পূর্বপুরুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উদ্ভূত লাল বুনো মুরগি বলে মনে করা হয়। ধারণা করা হয় যে, খাদ্যের জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী বন্য বুনো মুরগি শিকারের পর মানুষ সম্ভবত ৪,০০০ বছরেরও অনেক পূর্বে মুরগিকে গৃহপালিত করে। প্রাচীন ভারতে সূর্য দেবতাকে উৎসর্গকৃত ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও এসব মুরগি ব্যবহৃত হতো। সম্ভবত তখন পূর্ব-এশিয়ার মধ্য দিয়ে মুরগি বিস্তার লাভ করে এবং খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১,০০০ বছর আগে পারস্যে পৌঁছায় এবং তাদের প্রাচীন ধর্মে ভূমিকা রাখে।

গৃহপালিত গিনি মুরগির উদ্ভব হয়েছে আফ্রিকার শিরস্ত্রাণযুক্ত গিনি মুরগি থেকে। জানা যায় যে, সুদানের দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিম-আফ্রিকার দুটি স্থানে এদের প্রথমে গৃহপালিত করা হয়েছিল, তবে সময়কাল সম্পর্কে স্থির হওয়া যায়নি। প্রাচীনকালে গ্রিক ও রোমানদের কাছে গিনি মুরগি খুব পরিচিত ছিল। অবশ্য, প্রায় সব আধুনিক গিনি মুরগি সম্ভবত পর্তুগিজদের নিয়ে আসা পশ্চিম-আফ্রিকান উপ-প্রজাতি থেকে উদ্ভূত। মুরগি গৃহপালিত হওয়ার সময় থেকে গিনি মুরগিও গৃহপালিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রাচীনকাল থেকে এটি স্বীকৃত যে, গৃহপালিত হাঁস, বুনো হাঁস থেকে উদ্ভূত। বন্য ও গৃহপালিত হাঁসে খুব কম পার্থক্য দেখা যায়, তারা মুক্তভাবে নিজেদের মধ্যে প্রজনন ঘটায় এবং সংকরগুলো সম্পূর্ণ প্রজননক্ষম। গৃহপালিত টার্কির উদ্ভব হয়েছে একটি ম্যাক্সিকান উপ-প্রজাতি থেকে। গৃহপালিতকরণের কোনো নির্দিষ্ট স্থান ও সময় জানা যায়নি।

স্থানীয় জাতের মুরগির মাংস ও ডিমের উৎপাদনশীলতা যথেষ্ট কম হওয়ার কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে উন্নতজাতের ছোট-বড় হাঁস-মুরগি খামার প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এসব উন্নত জাতের পাখির মধ্যে রয়েছে সাদা লেগহর্ন, রোড আইল্যান্ড রেড, প্লাইমাউথ রক, অ্যাসেল, ওয়াইনডট ইত্যাদি। স্থানীয় জাতের তুলনায় এসব পাখি আকারে বড় এবং ওজনও হয় প্রায় ৪ কেজি। সাদা লেগহর্ন বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং এ জাতের একটি মুরগি বছরে প্রায় ২৩০টি ডিম দিতে পারে। বাংলাদেশে কোয়েলের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। এই ছোট পাখি, যার ওজন হয় মাত্র প্রায় ১৫০ গ্রাম, বছরে প্রায় ২০০ ডিম দিয়ে থাকে।

এভিয়ান টিউবারকুলোসিস, মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিসঘটিত হাঁস-মুরগির একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। রোগটি খুবই ব্যাপক, তবে যেসব সাধারণ খামার ও বাড়িতে দীর্ঘকাল হাঁস-মুরগি প্রতিপালিত হচ্ছে সেখানেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। আধুনিক হাঁস-মুরগি খামারে রোগটির প্রকোপ কম, কারণ সেখানে পাখি সাধারণত দুবছরের বেশি সময় রাখা হয় না। দেশি মোরগ-মুরগি, টার্কি ও গিনি ফাউল এই জীবাণু দ্বারা সহজে আক্রান্ত হয়, কিন্তু হাঁসে সচরাচর সংক্রমণ কম। তিন থেকে ছয় মাস বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে এই রোগপ্রবণতা বেশি। রোগটি বাংলাদেশের হাঁস-মুরগি খামারের জন্য তেমন কোনো হুমকি নয়। শীতকালে মাঝেমধ্যে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, রোগ ধীরে ধীরে বাড়ে এবং আক্রমণের অনেক দিন পর মুরগি মারা যায়। কখনো কখনো আক্রান্ত মুরগির দেহের ওজন কমে যায় এবং সেটি খুঁড়িয়ে হাঁটে।

কক্সিডিওসিস, এইমেরিয়া গণের কতিপয় প্রজাতির প্রোটোজোয়া দ্বারা সংক্রামিত এক রোগ। অন্তত সাতটি প্রজাতির মধ্যে E. tenella প্রধানত বাংলাদেশে কক্সিডিওসিস রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। এ রোগে পাখিগুলো ঝিমিয়ে পড়ে, খাওয়া বন্ধ করে এবং বিষ্ঠায় রক্ত দেখা যায়। আক্রান্ত পাখির মৃত্যুহার যথেষ্ট বেশি। মুরগির কলেরা Pasteurella নামের ব্যাকটেরিয়াঘটিত মুরগির মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এটি হিমোরেজিক সেপটিসেমিয়া নামেও পরিচিত। বাংলাদেশে মাঝেমধ্যে এ রোগের মড়ক দেখা দেয়। তিন থেকে ছয় মাস বয়সি মুরগিরাই অধিক আক্রান্ত হয়। রুগ্ণ পাখি দ্বারা দূষিত মাটি, খাদ্য ও পানির মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়।

মুরগির পক্ষাঘাত হাঁস-মুরগির ভাইরাসঘটিত রোগ। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। বাংলাদেশে ৩-৮ মাস বয়সি পাখিদেরই পক্ষাঘাতে অধিক আক্রান্ত হতে দেখা যায়। কিন্তু তিন সপ্তাহের বেশি, এমনকি এক বছর বয়সি ব্রয়লারও এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। স্থানীয় জাতের মুরগির এই রোগপ্রবণতা কম। আক্রান্ত পাখিকে এক বা দুপায়ে খোঁড়াতে দেখা যায়। কখনো কখনো একটি বা দুটি ডানা ঝুলে পড়ে। মৃত্যুহার বিভিন্ন, কিন্তু ৬-৮ মাস বয়সিদের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের বেশি হতে পারে। শীতকালেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব অধিক।

পাখির বসন্ত মুরগির ভাইরাসজনিত ব্যাধি। এর লক্ষণ আঁচিলের মতো গ-িকা বা নড্যুল, যা নানা আকারের হতে পারে। কোনোটি শিমের দানা আবার কোনোটি এর চেয়ে অপেক্ষাকৃত কিছুটা বড় হয়ে থাকে। গ-িকাগুলো মুরগির ঝুঁটি, চোখের পাতা এবং নাকের ও কানের ছিদ্রের প্রবেশপথে বা মাথার অন্যান্য অংশে তৈরি হয়। বাংলাদেশে সচরাচর শীতকালে রোগটির প্রাদুর্ভাব ঘটে। অপেক্ষাকৃত বয়স্ক পাখির তুলনায় কমবয়সি পাখি এই রোগে বেশি ভোগে। মৃত্যুহার খুব একটা উল্লেখ করার মতো নয়। পাখির টাইফয়েড গৃহপালিত পাখির রক্তদূষণজনিত ব্যাধি। এর আক্রমণ তীব্র এবং এতে মৃত্যুহার অধিক। রোগের কারণ Bacillus gallinarum ব্যাকটেরিয়া। আক্রান্ত পাখির মল দ্বারা দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে এ রোগের সংক্রমণ ঘটে। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে এর প্রাদুর্ভাব বেশি। মৃত্যুর হার শতকরা ২০-৮০ ভাগ।

গেপ রোগ খুদে গোল কৃমিঘটিত মুরগিছানার রোগ। কৃমিটি হাঁস-মুরগির শ্বাসনালি, ক্লোমনালি ও ক্লোমনালিকায় থাকে। এই কৃমির কর্মকাণ্ডের ফলে শ্লেষ্মা উৎপাদনসহ শ্বাসনালির স্ফীতি ঘটে আর বাতাস ঢোকার দরুন শ্লেষ্মা ফেনায় পরিণত হয়। আক্রান্ত পাখি মুখ হাঁ করে থাকে, হিস হিস শব্দে শ্বাস ফেলে, মাথা ঝাঁকায় এবং গলা লম্বা করে রাখে। বাংলাদেশে খামারের হাঁস-মুরগির বাচ্চাদের মধ্যে গেপ রোগ বহুদৃষ্ট হলেও মৃত্যুহার খুব বেশি নয়। গামবোরো রোগ খামারে হাঁস-মুরগির ভাইরাসঘটিত একটি মারাত্মক রোগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলওয়ারের একটি শহরের নামানুসারে এই রোগের নাম, যেখানে রোগটি প্রথম ধরা পড়ে। সাধারণত ৩-৪ সপ্তাহের ব্রয়লার মুরগি এতে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে পৃথিবীর সব দেশেই রোগটির প্রাদুর্ভাব ঘটে। ঢাকা ও শহরতলিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুলসংখ্যক মুরগিছানা সম্ভবত গামবোরো রোগেই মারা গেছে। সংক্রমণ একবার শুরু হলে ৪-৭ দিন বয়সি প্রায় ৭০ শতাংশ বাচ্চাই আক্রান্ত হতে পারে। মৃত্যুহার ৫০ শতাংশের অধিক। সংক্রমিত খাদ্যের মাধ্যমে রোগটি দ্রুত ছড়ায়। রোগের প্রধান লক্ষণ এবড়োখেবড়ো পালকসহ মারাত্মক ডায়রিয়া।

রানিখেত মুরগির একটি তীব্র ভাইরাসরোগ। দৃশ্যত মুরগির প্লেগের মতো হলেও এটি পৃথক ও অনাক্রম্যতানুসারে সুচিহ্নিত আরেকটি ভাইরাসজনিত রোগ। ১৯২৬ সালে ইংল্যান্ডের নিউক্যাস্লেস অঞ্চলে প্রথম শনাক্ত হওয়ার জন্যই এই নামকরণ। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হাঁচি, কাশি, জবুথবু অবস্থা, অতঃপর কাঁপুনি, পাক-খাওয়া, পড়ে-যাওয়া, মাথা ও গলা মোরানো বা সম্পূর্ণ পক্ষাঘাত। সকল ব্রয়লার মোরগ এই রোগপ্রবণ হলেও ৩-৮ সপ্তাহ বয়সিরাই বেশি আক্রান্ত হয়। মৃত্যুহার ৮০-১০০ শতাংশ। প্রধান লক্ষণ হলুদ-সাদা রঙের চুনের মতো দুর্গন্ধযুক্ত উদরাময়। আরেকটি বিশিষ্ট লক্ষণ মুখে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে দীর্ঘশ্বাস নেওয়া। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ অত্যধিক এবং মোরগমড়কের প্রধান হেতু। আক্রান্ত ডিম-পাড়া মুরগির ডিমের সংখ্যা ও মান দ্রুত হ্রাস পায়। চিকিৎসার জন্য এখন টিকা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের হাঁস-মুরগির প্রচুর পরজীবী শনাক্ত করা হয়েছে, আর এগুলোর বেশির ভাগই সন্ধিপদ ও চ্যাপ্টা-কৃমির দলভুক্ত। এক জাতের এঁটেল থাকে মুরগির খোয়ার ও খামারঘরের চিড় ও ফাটলে। পরজীবী হাঁস-মুরগির অনিদ্রা ও রক্তাল্পতা ঘটায়, উৎপাদন ক্ষমতা কমায় এবং এদের মধ্যে স্পাইরোকিটোসিস ও রিকেটসিয়ার মতো রোগ ছড়ায়। উকুন হাঁস-মুরগির ত্বকের উপরিভাগে বাস করে এবং চুলকানি, ওজন-হ্রাস, দুর্বলতা, ডিম-পাড়ার ক্ষমতাহানি এমনকি ছানাদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। বাংলাদেশে হাঁস-মুরগির প্রধানত ১২ প্রজাতির কৃমির মধ্যে A. galli I Raillietina প্রজাতিগুলো আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিকর রোগ ঘটায়। এতে সংক্রমণের স্থান অত্যধিক ফুলে ওঠে। গ্রামীণ পরিবেশে এই পরজীবী বেশি দেখা যায়।

লেখক : সহকারী কর্মকর্তা, ক্যারিয়ার অ্যান্ড প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস বিভাগ, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close