জাফরুল ইসলাম

  ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অনুভূতি

ফিরতে চাই প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

একটা দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যাদের অবদান অনস্বীকার্য সেই শ্রেণি আজ অবহেলিত। অথচ দেশ ও জাতিকে বিশ্বের দরবারে সম্মানজনক স্থানে তুলে ধরে এই শিক্ষিত সমাজ। বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করছে। এই ৫০ বছরে নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছে। বাংলাদেশ আজ আর কোনো নিছক মেকি দেশ নয়। আন্তর্জাতিক পরিম-লে এ দেশের গুরুত্ব সর্বজন স্বীকৃত। আর এই গুরুত্বের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে তারা হলো দেশের শিক্ষিত শ্রেণি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। যার পুরোটাই সম্ভব হয়েছে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে। আর এই সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে দেশের শিক্ষিত সমাজের কারণে।

আজ ৫০০ দিন অতিক্রম হতে চলল। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। আর এই বন্ধ থাকার অন্যতম কারণ হলো করোনা নামক মহামারি। করোনা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করেন। করোনার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ধাপসহ নানা ধাপ অতিক্রম করার পর দেশে আজ শিল্প কারখানা রাস্তাঘাট দোকানপাট সবকিছু খুলে দিয়েছে সরকার। কিন্তু সবকিছু খুলে দেওয়ার পরও খোলা সম্ভব হয়নি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। জাতিসংঘের ইউনিসেফের এক রিপোর্টে ওঠে এসেছে এশিয়ার দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়।

কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেন আগামী রবিবার থেকে প্রাথমিক, ও মাধ্যমিক, শ্রেণির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলব ইনশাআল্লাহ। শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণার পর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে, তাদের যারা উচ্চশিক্ষার জন্য স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। কারণ এর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এর সঙ্গে শুরু হলো টিকা দেওয়ার কার্যক্রম। আজ আমরা টিকা দিয়ে বসে আছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরব বলে। কিন্তু সে আশার গুড়েবালি। শিক্ষার্থীর মাঝে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আর তা হলো ফিরতে পারব কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে? নাকি হারিয়ে যাবে জীবনের উদ্যম সময়গুলো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশয় দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার তারিখ ও দিয়েছে। এই তারিখ দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। যেখানে ক্লাস নেই ক্যাম্পাস খোলা নেই সেখানে এই পরীক্ষা বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না। তা ছাড়াও পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকতে হবে। কিন্তু আবাসিক হলগুলো আজ বন্ধ তাহলে থাকবে তারা কোথায়? বাইরে থাকতে গেলে গুনতে হবে এক বৃহৎ অর্থ, যা শিক্ষার্থীদের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছ। স্নাতক শ্রেণিকে বলা হয় বাস্তব ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু আজ এই শিক্ষা কার্যক্রমে অবাস্তবে পর্যবসিত হয়েছে। অথচ স্নাতক শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর কত ভাবনা। তাকে তাড়াতাড়ি শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হবে, সংসারের হাল ধরতে হবে। কতকাল আর পরিবারের বোঝা হয়ে থাকবে। কতকাল আর আশপাশের মানুষের বিরূপ মন্তব্যের শিকার হবে। অথচ আজ খুব করে বলতে ইচ্ছা হচ্ছে, এটাই যেন আমাদের প্রাপ্য।

উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, শিক্ষা কার্যক্রম খুলে দেওয়া হচ্ছে। একবারও কি চিন্তা করা হয়েছে কীভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে? যেখানে ২০২০ সালের যারা এইচএসসি পাস করে তাদের কেবল ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পর্যন্ত হয়নি। সেখানে ভর্তি এবং এই খুলে দেওয়া কতটা সফল হবে সেটাই ভাবার বিষয়। এর বিপরীতে কিন্তু স্নাতক শ্রেণিতে যারা পড়াশোনা করে তাদের টিকা দেওয়া প্রায় শেষ। তা ছাড়া ক্যাম্পাসে রয়েছে বৃহৎ জায়গা। আর তারা অধিক সচেতন ও বটে। তাহলে তাদের আগে খুলে দেওয়া কি যুক্তিসঙ্গত নয়? খুব করে বলতে ইচ্ছা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী, জানি না আমার এই লেখা আপনার চোখে পড়বে কি না। কিন্তু আপনি দেশের সব সমস্যার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষায় যে সংকটের দিকে যাচ্ছে তার দিকে নজর দিন। মাঠ পর্যায়ে একটা জরিপ করুন, তাহলে দেখতে পাবেন কত শিক্ষার্থী তাদের স্বপ্নগুলোকে মাটিচাপা দিচ্ছে। কত শিক্ষার্থীর হাতের বই ছুড়ে দিয়ে তুলে নিয়েছে শ্রমিকের হাতুড়ি। আজ তাদের জীবনটা ঝুলছে। নেই কোনো লক্ষ্য, চলছে লক্ষ্যহীন। আমরা তো এমন জীবন কখনো প্রত্যাশা করিনি। তবে, কেন এমন হলো? হয়তো করোনা না হলে এমনটা হতো না। প্রেক্ষাপট হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। তবে সরকার বর্তমানে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেটা অবশ্য সময়োপযোগী। কিন্তু কথা হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথমে খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করাই ছিল শ্রেয়তর সিদ্ধান্ত। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের এই অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু তা হয়নি। হয়তো এটাই নিয়তি। তবুও প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই, যত শিগগির সম্ভব! এটাই প্রত্যাশা।

লেখক : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close