প্রবাসীদের ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা চাই

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

করোনাকালে দেশে ফিরতে হয়েছে। প্রবাসীদের বেশির ভাগই ফিরেছেন বাধ্য হয়ে। ফিরে এসে শঙ্কার চাদর জড়িয়েই কাটিয়েছেন ক্রান্তিকাল। সে সময় কেউ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এমনটাও নয়। তাদের ব্যবস্থা তাদেরই করতে হয়েছে। এখন ফিরবেন। এ সময় তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু সে দায়িত্ব কতটুকু পালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বলছে, প্রবাসীরা ভালো নেই। হাজারো প্রবাসী টিকিটের জন্য ঘুরছেন। কিন্তু মিলছে না কোনো টিকিট। ছুটিতে দেশে এসে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে সুযোগ সন্ধানী কিছু প্রতিষ্ঠান সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে। তারা চার-পাঁচ গুণ দামে বিক্রি করছে ওয়ানওয়ে টিকিট। কেবল সৌদি আরবই নয়, অন্যান্য দেশ থেকে ফেরা কর্মীরাও আছেন একই বিপদে। সব মিলিয়ে লাখখানেক কর্মীর জীবিকা পড়েছে অনিশ্চয়তার মুখে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারলে চাকরি হারাতে হবে। চাকরি হারালে তা ফিরে পেতে লাখের বেশি টাকা লাগবে। তার পরও সবাই ভিসা পাবেন এমন নিশ্চয়তাও নেই। উড়োজাহাজের টিকিট পেতে দুই দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন কর্মীরা। কিন্তু দুই দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খুবই সংকটপূর্ণ। তাদের কাছেও কোনো উত্তর নেই। আসলে বিষয়টি এখন জটিল আকার ধারণ করেছে। বিদেশে পাঠানোর পর তাদের আবার পুশব্যক করা হলে তখন সংকট আরো বাড়বে। সুতরাং; ক্লিয়ারেন্স পাওয়াটা খুবই জরুরি। আমরা মনে করি, সরকার এ ব্যাপারে সচেতন এবং গুরুত্ব দিয়েই চেষ্টার ত্রুটি করছে না। তবু বলতে হয়, চেষ্টার মাত্রাকে আরো কিছুটা বাড়িয়ে সমস্যার গিঁট খোলা দরকার। কেননা, এসব প্রবাসীই এ দেশের ফুসফুস। এদের ওপর নির্ভর করেই আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

এদিকে করোনার কারণে ১ মার্চ বন্ধ হওয়া বিমান চলাচল এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। সৌদি এয়ার লাইনসের দুটি ফ্লাইট চলছে। স্বাস্থ্যবিধির বাধ্যবাধকতায় ৬০০ আসনের এসব ফ্লাইটে সর্বোচ্চ ২৬০ জন যাত্রী পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। সৌদি এয়ার লাইনসের চলমান দুটি ফ্লাইটে প্রতিদিন ৫২০ জন যাত্রী সৌদি আরবে ফিরলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আটকে পড়াদের ৫ শতাংশও ফিরতে পারবেন না। ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, সৌদি সরকার ভিসার মেয়াদ না বাড়ালে তাদের হয়তো আর কাজে ফেরা সম্ভব হবে না। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়াতে এরই মধ্যে সৌদি সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখনো দেশটির কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বিপরীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে থাকা অবৈধ কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে বলছে।

আসলে বিষয়টি নির্ভর করছে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। এখানে বাংলাদেশ সরকারের তেমন কিছু করার নেই। এটাই এ মুহূর্তের বাস্তবতা। তবু বলতে হয়, এ বাস্তবতার দিক পরিবর্তন করতে হবে। কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সৌদি এয়ারপোর্টে বিমান বাংলাদেশের অবতরণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাই। সরকারের সফলতা ছাড়া আমাদের কোনো দ্বিতীয় বিকল্প নেই। আশা করি, সরকার এ কাজে সফল হবে এবং লাখো প্রবাসী তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে শঙ্কামুক্ত হবে এটুকুই প্রত্যাশা।

 

"