জান্নাতুল লামিশা, গণ বিশ্ববিদ্যালয়

  ৭ ঘণ্টা আগে

গবিতে বিশ্বকাপের রং

চার বছর পরপর পৃথিবী যেন এক অদৃশ্য সুতোর বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে। ভাষা, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা রাজনৈতিক সীমারেখা সবকিছু ছাপিয়ে ফুটবল হয়ে ওঠে কোটি মানুষের আবেগের নাম। বিশ্বকাপের বাঁশি বাজতেই রঙিন হয়ে ওঠে শহর, গ্রাম, অলিগলি; পতাকার রঙে রঙিন হয় আকাশ, আর প্রিয় দলের জয়-পরাজয়ে আন্দোলিত হয় অসংখ্য হৃদয়। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মঞ্চে না থাকলেও এ দেশের ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস কোনো অংশে কম নয়। সেই উচ্ছ্বাসেরই রঙ ছড়িয়ে পড়েছিল সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন্যাল গার্ডেন রোড সেজে ওঠে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের পতাকায়। মুহূর্তের জন্য যেন ক্যাম্পাসের সেই পথটুকু রূপ নেয় এক আন্তর্জাতিক উৎসব প্রাঙ্গণে। বাতাসে উড়তে থাকা রঙিন পতাকা, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস আর ফুটবলপ্রেমের আবহ পুরো ক্যাম্পাসকে এনে দেয় এক ভিন্নমাত্রা।

প্রিয় দলকে সরাসরি মাঠে বসে সমর্থন জানানো সম্ভব না হলেও প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে পিছিয়ে ছিলেন না শিক্ষার্থীরা। কেউ গায়ে জড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি, কেউ ব্রাজিলের হলুদ, কেউবা পর্তুগাল কিংবা মরক্কোর জার্সি পরে উপস্থিত হয়েছেন উৎসবে। হাজার মাইল দূরের দেশগুলোর প্রতি এই আবেগ ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু একটাই, ফুটবল।

ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়া ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী ইমন বলেন, ‘আজকের আয়োজনটা ফিফা ২০২৬ উপলক্ষে। সবাই এখন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। সেই উন্মাদনার অংশ হতেই কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এই ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করেছে। এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য আমি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান ভাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

উৎসবজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। প্রিয় দলের পতাকা হাতে ছবি তোলা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর ফুটবল নিয়ে আলোচনা সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। বিশ্বকাপের আবহকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই মিলনমেলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও আনন্দের এক নতুন উপলক্ষ এনে দেয়।

ফেস্টিভ্যাল শেষে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই এখন ফিফা বিশ্বকাপের আমেজ রয়েছে। সেই আমেজ গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এই ছোট আয়োজন করেছে। সময়ের ব্যবধানের কারণে এবার বড় পর্দায় খেলা দেখানোর সুযোগ হচ্ছে না। তবুও আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বকাপের আনন্দ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

শেষ বিকেলে ক্যাম্পাসে যখন ধীরে ধীরে ভিড় কমতে শুরু করে, তখনো মেডিসিন্যাল গার্ডেন রোডজুড়ে উড়ছিল বিভিন্ন দেশের পতাকা। বিশ্বকাপের সেই রঙিন আবহ হয়তো কয়েক ঘণ্টার আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মুখে-মুখে রয়ে যায় ফুটবল নিয়ে আলোচনা, প্রিয় দলকে ঘিরে স্বপ্ন আর প্রত্যাশা। হাজার মাইল দূরে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের উত্তাপ ছুঁয়ে গিয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়কেও।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়