মো. মেহেরাব হোসেন রিফাত, ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল
উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্তে নবীনদের পথচলা শুরু

চোখে নতুন স্বপ্ন, মনে অজানা সম্ভাবনার হাতছানি। উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রা শুরু করতে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো শিক্ষার্থী। তাদের পদচারণায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাস।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে কলেজের ২২টি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় ওরিয়েন্টেশন ক্লাস ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান। নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রতিটি বিভাগই নিজেদের মতো করে আয়োজন করে নানা কর্মসূচি। কোথাও ছিল বর্ণিল ও জমকালো অনুষ্ঠান, আবার কোথাও ছিল একদম সাদামাটা আয়োজন। তবে সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটাই বিষয় নবীনদের আপন করে নেওয়া। ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণার সুযোগ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেন। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, কর্মজীবন পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের নানা দিক নিয়েও আলোচনা করেন তারা। নতুন পরিবেশে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও প্রদান করা হয়।
বিভিন্ন বিভাগের আয়োজনের মধ্যে ছিল বৈচিত্র্যের ছাপ। বাংলা, হিসাববিজ্ঞান, ইতিহাসসহ কয়েকটি বিভাগে অনুষ্ঠিত রম্য বিতর্ক নবীন শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। হাস্যরসাত্মক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এসব বিতর্কে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন আনন্দ পেয়েছেন, তেমনি পরিচিত হয়েছেন বিভাগের সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গেও। এছাড়া পরিচিতি পর্ব, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিক্ষার্থী শিক্ষকদের মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।
প্রায় ৬০ একরজুড়ে বিস্তৃত সবুজ শ্যামল বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে নবীনদের উপস্থিতি যেন ফিরিয়ে এনেছে তার চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য। বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও নবীনদের স্বাগত জানাতে তথ্য ডেস্ক, শুভেচ্ছা কর্নার ও ফটো বুথ স্থাপন করে। নতুন বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলা, ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা এবং সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে দিনটি উপভোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পছন্দের কলেজ ও পছন্দের বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে তারা উচ্ছ্বসিত। অনেকেই জানান, বিএম কলেজের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও সুনাম তাদের এখানে পড়াশোনা করার আগ্রহ বাড়িয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন, এই প্রতিষ্ঠান তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষকরাও নবীনদের নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত পাঠচর্চা, গবেষণা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। একই সঙ্গে তারা বিএম কলেজের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও সাফল্যের ধারাবাহিকতাকেও আরো সমৃদ্ধ করবে।
উচ্চশিক্ষার এই নতুন যাত্রাপথে সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ, আবার অসীম সম্ভাবনাও। স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে নবীন শিক্ষার্থীরা যখন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে, তখন প্রাণবন্ত বিএম কলেজ ক্যাম্পাস যেন তাদের সেই পথচলার নীরব সাক্ষী হয়ে উঠেছে।
"









































