বেনাপোল প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

বেনাপোল বন্দরে আবারো পণ্য জব্দ 

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানিতে একটি সিন্ডিকেটের ঘোষনা বহির্ভূত এবং ঘোষনার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি থামছেই না। সেই সাথে চলছে নো-এন্ট্রির মাধ্যমে শুল্কফাঁকি দিয়ে পণ্য চালান বন্দর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এসব ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। বন্দরের শেড ইনচার্জ ও গুটি কয়েক কর্মকর্তা দেদারসে অপকর্ম করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) রাতে বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৬ নং শেডে আমদানিকৃত বৈধ পণ্যচালানের সাথে অবৈধ অতিরিক্ত ৫০ কার্টুন উচ্চ শুল্ককর ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে রাজস্ব ফাঁকি দিতে ঘোষনা বহির্ভূত ৩০ কার্টুন উচ্চ মূল্যের বিভিন্ন দামি শাড়ি ও ২০ কার্টুন ফেসওয়াস আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমস হাউজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ৭ জুন ভারত থেকে ৩২৬ কার্টুন কালার পেন্সিল, ওয়াটার কালার পেন্সিল ও ইরেজার (রাবার) আমদানির একটি চালান বেনাপোল বন্দরের ২৬ নম্বর শেডে প্রবেশ করে। ভারতের কোহিনুর এক্সপোর্ট এর রফতানি করা পণ্য চালানের আমদানিকারক যশোরের শার্শার টিএস ইন্টারন্যাশনাল। যার মেনিফেস্ট নম্বর-৩৬৩৪৯১০/২।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত পণ্যের সাথে ঘোষনা বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ পণ্য নিয়ে আসার তথ্য পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিস্ট বন্দরের শেড ইনচার্জ রজব আলী এই চক্রের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠে। ২৬ নম্বর শেডের ইনচার্জ রজব আলীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই পণ্য খালাসের চেস্টা চলছিল।

রোববার সকাল থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ইনভেস্টিগেশন রিসার্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট (আইআরএম) টিম ওই শেডে তল্লাশি চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করে। জব্দকৃত অতিরিক্ত কার্টুনগুলো খুলে তার ভেতর থেকে আমদানি নিষিদ্ধ বা উচ্চ শুল্কযুক্ত উন্নত মানের ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস এবং কসমেটিকস সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩০ কার্টন শাড়ি (তিন হাজার ১৬ পিস প্রিমিয়ার শাড়ি ও ৩৬৯ পিস গর্জিয়াস শাড়ি)। ২০ কার্টন ফেস ওয়াস এ পাওয়া যায় দেড় টন ফেসওয়াস। জব্দকৃত পণ্যের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে জব্দকৃত পণ্য চালানের মূল্য দেড় কোটি টাকা।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে বেনাপোলের একটি সিন্ডিকেট বৈধ মেনিফেস্টের আড়ালে বিপুল পরিমাণ ঘোষনা বহির্ভূত বাণিজ্যিক পণ্য ও সেই সাথে চলছে নো-এন্ট্রির মাধ্যমে শুল্কফাঁকি দিয়ে পণ্য চালান বন্দর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এই সেন্ডিকেটে কতিপয় আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও বন্দরের শেড ইনচার্জ ও বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই শেড ইনচার্জ গোপনে আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টের সাথে যোগসাজস করে অতিরিক্ত পণ্য অবৈধ ভাবে বন্দর থেকে বের করে দেয়ার জন্য কয়েক লাখ টাকার গোপন চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী পণ্যগুলো কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে খালাসের প্রক্রিয়ার চলছিল, কিন্তুু তার আগেই কাস্টমসের তৎপরতায় জালিয়াতি ধরা পড়ে যায়।

এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধ সহযোগিতার বিষয়ে জানতে ২৬ নম্বর শেড ইনচার্জ রজব আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাননি।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার সাঈদ আহমেদ রুবেল জানান, জব্দকৃত অতিরিক্ত পণ্যের ইনভেন্টরি করা হয়েছে। এই শুল্ক ফাঁকির সাথে আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং বন্দরের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারির প্রত্যক্ষ অবহেলা বা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে কোন অনিয়মের বিরুদ্ধে কাস্টমস জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।

বেনাপোল কাষ্টমস হাউজের কমিশনার মোঃ ফাইজুর রহমান জানান, সরকারের রাজস্ব ফাঁকির সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। বেনাপোল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষনায় কেউ পণ্য আমদানি করলে সেটা আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে কয়েকজনের লাইসেন্স বাতিলসহ ফৌজদারী মামলা করা হয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়