reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

সময় বদলায়, বদলান না মেসি 

সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, এমনকি ফুটবলের কৌশল আর ভাষাও বদলে যায়। কিন্তু কিছু নাম সময়ের সীমানা পেরিয়ে চিরন্তন কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। সেই মহাজাগতিক নামগুলোর অন্যতম—লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের ধূলিকণা মাখা মাঠে ৬ বছর বয়সে যে ছেলেটি বল পায়ে স্বপ্ন বুনেছিল, আজ ২৬ বছরেরও বেশি সময় পেশাদার ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের আলোয় কাটিয়েও তার চোখের ক্ষুধা একটুও কমেনি।

চেনা মঞ্চে নতুন চ্যালেঞ্জ: আগামীকাল সকালে আরেকটি নতুন মঞ্চে, নতুন জার্সিতে নামছেন মেসি। নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন প্রতিপক্ষ, আর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নতুন এক অভিষেকের অপেক্ষা।

অথচ এই চেনা দৃশ্যটা যেন বড্ড চেনা! প্রতিবার মেসির নতুন শুরুর আগে ফুটবল বিশ্বে একটাই গুঞ্জন ওঠে—“এবার কী দেখাবেন জাদুকর?” আর প্রতিবারই সব প্রশ্নের উত্তর মাঠেই দিয়ে তিনি প্রমাণ করেন, বয়স আসলেই কেবল একটা সংখ্যা। রোজারিওর আঙিনা: শৈশবেই ফুটবলের প্রেমে পড়া এবং হরমোনজনিত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার লড়াই।

লা মাসিয়ার জাদুঘর: স্পেনের বার্সেলোনা একাডেমি ‘লা মাসিয়া’-য় বেড়ে ওঠা। কৈশোরেই বিশ্ব চিনেছিল এই বাঁ-পায়ের জাদুকর সাধারণ কেউ নন।

ফুটবলীয় সাম্রাজ্য: বলের ওপর অতিমানবীয় নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত ড্রিবলিং আর খেলার গতি পড়ার ক্ষমতা তাকে দ্রুত নিয়ে যায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ চূড়ায়। গোল, অ্যাসিস্ট, ব্যালন ডি'অর আর ট্রফি জয়—সবকিছুই তিনি বানিয়ে ফেলেছেন এক নিয়মিত রুটিন।

গতি কমলেও কমেনি ধার: সাধারণত ফুটবলারদের বয়স বাড়লে গতি কমে, ধার কমে আসে। কিন্তু মেসির গল্পটা ভিন্ন। তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। আগের মতো হয়তো প্রতি ম্যাচে ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করে বক্সে ছোটেন না; কিন্তু এখন তিনি ‘গেম মেকার’। নিখুঁত পাসিং, খেলা নিয়ন্ত্রণ করা এবং চোখের পলকে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার জাদুকরী ক্ষমতা এখনো শতভাগ অটুট।

বিশ্বকাপ জয় এবং অন্তহীন ক্ষুধা: ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে সোনালী ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করেছেন মেসি। অনেকেই ভেবেছিলেন, ফুটবলকে তো সবকিছুই দিয়ে দিয়েছেন, এবার হয়তো বুটজোড়া তুলে রাখবেন বা খেলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো! জাতীয় দল হোক কিংবা ক্লাব ফুটবল—মেসির ভেতরের প্রতিযোগিতার আগুন এখনো নেভেনি। তিনি এখনো প্রতিটা ম্যাচ জিততে চান, প্রতিটা টুর্নামেন্টে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে যেতে চান। ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য নক্ষত্রের উদয় হয়েছে, আবার তারা হারিয়েও গেছেন। কিন্তু খুব কম খেলোয়াড়ই সময়কে এভাবে বুড়ো আঙুল দেখাতে পেরেছেন। ৬ বছর বয়সের সেই ছোট্ট লিও আজ ছাব্বিশ বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কোটি কোটি মানুষের আবেগের শেষ আশ্রয়স্থল।

আগামীকাল যখন তিনি আবার মাঠে নামবেন, তখন সেটি কেবল একটি ম্যাচ হবে না; সেটি হবে এক জীবন্ত কিংবদন্তির অমর যাত্রার আরেকটি নতুন পাতা। মাঠের সবুজ ঘাসে পা রাখলেই মনে হয়, মেসি এখনো সেই আগের মতোই আছেন—একই স্বপ্ন, একই নিখুঁত স্পর্শ আর ফুটবলকে ভালোবাসার সেই আদিম আনন্দ নিয়ে। আর এই কারণেই ফুটবল বিশ্ব আজও তার দিকে তাকিয়ে থাকে গভীর বিস্ময়ে!

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়