শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে টাইগারদের হার, হোয়াইটওয়াশ এড়ালো অস্ট্রেলিয়া

১৫ বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে ঢাকায় পা রেখেছিল টিম অস্ট্রেলিয়া। পরিসংখ্যান ও শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও টাইগাররা যে ঘরের মাঠে কতটা শক্তিশালী তা এবার হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে অজিরা। টানা দুই ম্যাচে বিধ্বস্ত হয়ে সিরিজ হারানোর পর হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে ছিল সফরকারীরা। তবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়ে সম্মান রক্ষা করল অজিরা।
রবিবার (১৪ জুন) আগে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে ২৭৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৩ বল এবং ১ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় অজিরা। এতে ২-১ ব্যবধানে শেষ হলো ওয়ানডে সিরিজ।
চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কুপার কনোলি এবং জশ ইংলিসের ব্যাটে ভর করে উড়ন্ত সূচনা পায় অস্ট্রেলিয়া। ওপেনিং জুটিতে দুজন মিলে তুলেছেন ৪০ রান। ১২ বলে ২১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান অধিনায়ক ইংলিস। তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেটতা এনে দেন শরিফুল ইসলাম।
একই ওভারে তিনে নামা ম্যাট রেনশকেও ফেরান শরিফুল। ২ বলে ০ রান করে বিদায় নিয়েছেন রেনশ। বোলিংয়ে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। এরপর কনোলির সাথে জুটি বাঁধেন অ্যালেক্স ক্যারি। খুব একটা লম্বা হয়নি ক্যারির ইনিংস। ১৬ বলে ৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। দলের ৭০ রানের মাথাতে ৩ উইকেট হারিয়েছে অজিরা। ক্যারিকে ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।
এক প্রান্ত ধরে খেলে গেছেন কুপার কনোলি। ক্যারির বিদায়ের পর মারনাস লাবুশেন এবং ক্যামেরন গ্রিন যোগ দেন কনোলির সাথে। এক প্রান্তে ধরে খেলে যাওয়া কনোলি ফিফটি পার করেন। বাংলাদেশের বোলারদের দারুণভাবে সামলে রান বের করেছেন কনোলি।
শেষ পর্যন্ত ছুঁয়ে ফেলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারও। লাবুশেন খেলেছেন ৪৫ বলে ২৯ রানের ইনিংস। অন্যদিকে গ্রিন খেলেন ৩৫ বলে ২৭ রানের ইনিংস। লাবুশেনকে ফিরিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। গ্রিনকে বিদায় করেন শেখ মেহেদী হাসান। তবে সেঞ্চুরি হাঁকানো কনোলি টিকে ছিলেন।
এক প্রান্ত আগলে রেখে টেনেছেন দলের ইনিংস। অজি ব্যাটারদের মধ্যে বাংলাদেশের বোলারদের সবচেয়ে ভালোভাবে সামলেছেন কুপার কনোলি। সেঞ্চুরির পরেও দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যের দিকে ছুটেছেন কনোলি। আরেক প্রান্তে ছিলেন ওলিভার পিক। দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন কনোলিকে। তাসকিন আহমেদের করা ৪৪তম ওভার থেকে চলে আসে ২১ রান। তাতেই অজিদের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
যদিও পরের ওভারে পরপর দুই বলে ওলিভার পিক এবং জাভিয়ের বার্টলেটকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল, জাগান হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও। তবে হ্যাটট্রিক পাননি। পরে আরও এক উইকেট তুলে ম্যাচটাকে দারুণভাবে জমিয়ে দেন শরিফুল। মাঝে দুটি ক্যাচ মিস না হলে হয়ত ম্যাচটা জিতিয়েই দিতে পারতেন।
৪৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের বোলিং শেষ করেন শরিফুল ইসলাম, অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। শেষ ২ ওভারে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৫ রান দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। মোস্তাফিজুর রহমান আসেন বোলিংয়ে, স্ট্রাইকে ১৪৯ রানে অপরাজিত কনোলি।
প্রথম বলেই হল ওয়াইড। পরের বলে সিঙ্গেল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নেননি কনোলি। পরের বলে হয়েছে ডট। ঠিক তার পরের বলেই প্লেড অন হয়েছেন কনোলি। দারুণ এক উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ, বাংলাদেশকে ম্যাচেও ফেরান। ১৩৪ বলে ১৪৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান কুপার কনোলি।
৯ বলে তখনও অজিদের দরকার ছিল ৪ রান। পরের বলও হয়েছে ডট। ৮ বলে দরকার ছিল ৪ রান। আরও এক ডট বলে সমীকরণ চলে আসে ৭ বলে ৪ রানে। ওভারের শেষ বলে ১ রান আসে। শেষ ওভারে অজিদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩ রান। বাংলাদেশের চাই মাত্র ১ উইকেট।
শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম বলে আসে ১ রান। পরের বলে তাসকিন দেন ইয়র্কার, রান আসেনি। ৪ বলে অজিদের দরকার ২ রান। পরের বলে চার মেরে দেন অ্যাডাম জাম্পা। ৩ বল হাতে রেখে ১ উইকেটে জয়লাভ করে অস্ট্রেলিয়া।









































