মো. ফাহাদ হোসেন, নোবিপ্রবি

  ২৪ নভেম্বর, ২০২১

শীতের আমেজে প্রাণবন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

বাংলাদেশের ঋতুচক্রের পালাবদলে প্রকৃতিতে দেখা দিয়েছে ভিন্ন রূপ, ভিন্ন সৌন্দর্যময়তা। ঘাস আর ধানের ডগায় ঝলমল শিশির কণা জানান দিচ্ছে ঋতুর পরিবর্তনের খবর। এসেছে শীত। গোধূলীর সোনালি সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই ঘন কুয়াশার চাদরে আকড়ে ধরা প্রকৃতির দিকে তাকালে তা বোঝা যায়।

শীত হাজির হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে অবস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবুজ ক্যাম্পাসে ইতিমধ্যে লেগেছে শীতের ছোঁয়া। কুয়াশার চাদরে ঢাকা ক্যাম্পাস, একটু সকাল হলে সূয্যি মামার আলোর আভায় তৈরি হওয়া অপরূপ সৌন্দর্য দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসের প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলে প্রতিনিয়ত।

পাহাড়ঘেরা সবুজ প্রকৃতির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য সব ক্যাম্পাস থেকে একটু আগেই শীত আসে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ‘শহর কিংবা গ্রামের মতোই শীতের অসাধারণ সৌন্দর্য তৈরি হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভোরে কুয়াশা চাদরে ঢেকে যায় সেন্টাল ফিল্ড, ফরেস্টি, কাটা পাহাড়ের মেইন রোড সহ গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসের উপর হাঁটার সময় শিশির ভেজা ঘাসগুলো মনে করিয়ে দেয় গ্রামের মেঠোপথে হাঁটার সেই অনুভূতিকে। রাতে হাঁড়কাপানো শীতের মধ্যে বন্ধুবান্ধবের আড্ডায় মুখরিত হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। শহিদ মিনারের সামনে বিভিন্ন পদের ভর্তার সাথে শীতের পিঠা খাওয়া ক্যাম্পাস জীবনে অন্যরকম আবেশ তৈরি করে।

দেশের উপকূলীয় বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে কয়েক সপ্তাহ ধরে। এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিশু বলেন, ‘কুয়াশার দৃশ্যমান চাদরই বলে দেয় নোবিপ্রবিতে শীত এসে গেছে। সারাবেলা একটু গরম অনুভূত হলেও মধ্যরাতের শীতল পরিবেশ আর ভোরের কুয়াশা তার আগমনী বার্তা দেয়। প্রকৃতির এই ঋতুচক্র নয়নাভিরাম সবুজ ক্যাম্পাসকে আরো মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ‘শিউলি ফুল আর পাখিদের আনাগোনা, সাথে কুয়াশা মেশানো পায়ে সকালটায় থাকে অন্যরকম মায়া। বিকেল কিংবা সন্ধ্যার ধোঁয়া উঠা চায়ের আড্ডাগুলো জমে উঠেছে ক্যাম্পাসের শান্তিনিকেতনে। পুকুর পাড়ও তার ব্যস্ততা ফিরে পাবে পিকনিক আমেজে। শীতের আকর্ষণ থাকে ব্যাডমিন্টন আর ভলিবল খেলা! এবারে তার সাথে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে গোলচত্বরে সন্ধ্যাকালীন ক্রিকেট। আবাসিক হলগুলোও মাঠ প্রসস্ত করছে। কেন্দ্রীয় মাঠে ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়মিত আনাগোনা তো আছেই। ঋতুর এই পরিবর্তন ছাপার অক্ষরে তুলে ধরা আসলেই কঠিন।

দেশের দক্ষিণের উপকূলীয় বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রকৃতিতে লেগেছে শীতের ছোঁয়া। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মোসা. আরীবা আন-ওয়ারী বলেন, ‘যখন সোনারাঙা সূর্যটা কুয়াশার চাদর হতে হাল্কা হাল্কা উঁকি দেয়, তখন শিশিরভেজা দূর্বাঘাসে রোদের ছোঁয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ যেন জেগে ওঠে।

শীতের সৌন্দর্য নিয়ে আরীবা আন-ওয়ারী আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে হলুদ গাঁদা ফুলগুলো রোদের রঙে নিজেকে সাজাতে কখনো ভুল করে না। তেমন খুবির কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশের পুকুরে সকালের ফুটন্ত শাপলাগুলোয় ও লেকে পাখিদের লুকোচুরি দেখে যে কেউ বিমোহিত না হয়ে থাকতে পারবে না। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছের সমারোহ শীতকে অনেক বেশি ফূটিয়ে তোলে। আর এই রঙকে আরো গাঢ় করে চায়ের কাপের উত্তাপ, ভাপা পিঠার ধোঁয়া কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close