reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা

করোনা সংকটে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দিন বন্ধ। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও অনলাইন পড়াশোনায় অবতরণ করেছেন। করোনার ফলে যেখানে হাজারো শিক্ষার্থী বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সেখানে অনলাইনে আমাদের দেশে পড়াশোনাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে মানোন্নয়নের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা মেনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ভিত্তিক সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইন পরীক্ষার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা করেছে আবদুল্লাহ আল নোমান

এই সময়ে অনলাইনে পরীক্ষাটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

আগে কেবল বইপুস্তকে পড়াশোনা করে সর্বশরীরে ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতাম। কিন্তু লকডাউনে নিজেরাই মোটামুটি সবকিছু ভার্চুয়াল জগতের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছি। অনলাইন পরীক্ষা অন্যান্য দেশে সচরাচর হলেও আমাদের দেশে তা এখনো ততটা আপডেট হয়নি। তার মধ্যে একটা কারণ নেটওয়ার্কিং সমস্যা। কখন যে কোনদিকে নেটওয়ার্ক ধরে আর যায় তা বলা দুষ্কর। ওয়াইফাই এখনো সব জায়গায় তার গন্ডি ছড়াতে পারেনি। যেখানে ওয়াইফাইয়ের রাজত্ব সেখানে চলে বিদ্যুতের খবরদারি। মোটামুটি অনলাইন জগতে আসতে হলে সবকিছুরই উন্নয়ন জরুরি। কিন্তু এই সময়ে অনলাইনে পরীক্ষাটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে আরো আগে যদি পরীক্ষা হতো তাহলে শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হতো।

নাদিয়া সুলতানা

শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

অনলাইন অনেক বড় প্ল্যাটফরম হতে পেরেছে

আমার অনলাইন পরীক্ষার অভিজ্ঞতা ঠিক এমনই তিক্তকর ধরনের। আ্যসাইমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, গুগল মিট, জুমে নির্ধারণ করা সময়ে বহুনির্বাচনী ও সংক্ষিপ্ত-রচনামূলক প্রশ্ন, অনলাইন ভাইবা, সর্বোপরি ক্লাস মূল্যয়নের ক্ষেত্রে বেঁধে দেওয়া নাম্বারের জন্য দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট আর স্মার্ট ফোনে ডুবে থাকা। এতসব ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে পড়াশোনা করাটা যেমন সুষ্ঠু হয় না, তেমন মন-মেজাজও ঠিক রাখা যায় না। ফোনে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে অনেক সময় চোখের সমস্যা, ঘুম চলে আসা, নেটওয়ার্ক অসুবিধা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ডেটা কিংবা ওয়াইফাইয়ের ভোগান্তিসহ নানা জটিলতায় পড়তে হয়। পরীক্ষায় নির্ধারণ করা সময়ে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি হয়। স্বল্প সময়ে অধিক প্রশ্ন সমাধান করার অসুবিধাও কম নয়। তবে সব মিলিয়ে সেশনজট থেকে মুক্তি পাওয়ার সুবিধা আর এত ঝামলোর মধ্যেও দিনশেষে কিছু না কিছু শিখতে পারার ক্ষেত্রে অনলাইন অনেক বড় প্ল্যাটফরম হতে পেরেছে বলে মনে করি। এটা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঙ্গে যতটা দূরদর্শী করতে পারছে, ততটা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সহজ ও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।

তানভীর আহম্মেদ

শিক্ষার্থী

গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

 

অর্জন হলো নতুন এক অভিজ্ঞতা

করোনাকালীন প্রথম দিকে যখন শুনলাম বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে পরীক্ষা দিচ্ছে তখন ব্যাপারটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। দীর্ঘদিন পর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ও ঘোষণা দিল অনলাইনে পরীক্ষা নিবে। অনেকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। অনলাইনে ক্লাস করাটা সহজ এবং স্বাভাবিক কিন্তু পরীক্ষা দেওয়াটা কি আদৌ সম্ভব! এ ছাড়া ইন্টারনেট সংযোগের যে নাজেহাল অবস্থা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আরো সমস্যা। যাই হোক, তারপর রুটিন পেলাম, এক্সাম তো দিতেই হবে। জুম অ্যাপসের মাধ্যমে ভিডিও চালু রেখে পরীক্ষা দিতে হবে এবং গুগল ক্লাস রুমে উত্তরপত্র সাবমিট করতে হবে। প্রথমে আমরা কুইজ এবং মিডটার্ম দিলাম উক্ত পদ্ধতিতে, তারপর সেমিস্টার ফাইনাল। প্রথম দিকে বেশ কয়েকজনের সমস্যা হয়েছে, উত্তরপত্র জমা দিতে গিয়ে একবার আমাকেও পড়তে হয়েছে বিব্রতকর অবস্থায়। নেটওয়ার্ক সমস্যা, ভিডিও চালু রাখা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, সময়মতো সঠিক জায়গায় উত্তরপত্র জমা দেওয়া অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমাদের শিক্ষকরা সে বিষয়টা বিবেচনায় রেখেছেন যে কারণে আমাদের পরীক্ষা দিতে সহজ হয়েছে। ভালোভাবেই সবগুলো পরীক্ষা শেষ করলাম। ভাইভাও দিলাম অনলাইনে, অর্জন হলো নতুন এক অভিজ্ঞতা।

মোহাম্মদ তানভীর হোসাইন

শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা লাঘব হয়েছে

আমি মনে করি, শিক্ষার্থী ব্যতিরেকে একজন মানুষ হিসেবে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। বলাবাহুল্য, অনলাইন ক্লাস এই ব্যাপারটাকে বেশ সহজ করে দিয়েছে। এখানে বেশ কটি প্রশ্ন আসতে পারে। যেমন- পরীক্ষায় স্বচ্ছতার বিষয়টা কি নিশ্চিত করা যাচ্ছে? বা প্রত্যেকের সুবিধার জায়গাটায় কি পুরোপুরি স্বাধীনতা দেওয়া সম্ভবপর হয়েছে? আমি বলব, না। তবে এই সবকিছুকে একদিকে রেখে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিষয়ক অনিশ্চয়তা যে অনেকখানি লাঘব হয়েছে তা বলতেই হবে। আর এ ক্ষেত্রে যারা প্রথম সারিতে থেকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারা হলেন আমাদের শিক্ষক। প্রথম থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত যে কোনো পরীক্ষায় একাধিক শিক্ষক, ইনভিজিলেটর এবং চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষকরা সত্যিই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে আমি মনে করি। তবে রুটিন সম্পর্কিত কিছু ছোটখাটো ঝামেলা থেকেই যায়। তবে এত বড় পদক্ষেপের মাঝে আমি সেটাকে অগ্রাহ্য করাই শ্রেয় মনে করি।

তবে সর্বোপরি, একজন অনলাইন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বলব, সুষ্ঠু নির্দেশনা আর পদক্ষেপের দিক দিয়ে শিক্ষকদের ভূমিকা আসলেই অনুকরণযোগ্য।

রেজওয়ানা হক রশনী

শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close